পুলিশের ব্রিফিং
আইফোন দিতে চায়নি অপ্রতিম, খুন করা হয় বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে

ব্রিফিং করছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম আইফোন দিতে না চাওয়ায় খুনিরা তাকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে আঘাত করা হয়েছে বাঁশের লাঠি দিয়ে।
আজ রবিবার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার বলেছেন, ‘প্রথমে সন্দেহভাজন তুহিনকে আমরা হেফাজতে নিই। জিজ্ঞাসাবাদের পর ফাহাদের নাম জানা যায়। তাকে হেফাজতে নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে ফাহাদ কামরুলের নাম জানায়।’
আনিসুজ্জামান বললেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় ওই আইফোন রয়েছে তুহিনের বাসায়। সেখানে গিয়ে তুহিনের রুমের তোশকের নিচ থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
হত্যার কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বললেন, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই মূলত অপ্রতিমকে সানন্দা এলাকার ওই পাহাড়ি স্থানে নেওয়া হয়। ওই সময় তুহিন অপ্রতিমের কাছে ফোন চাইলে সে দিতে চায়নি। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে তুহিনসহ বাকিরা। মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ‘এ ছাড়া আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছি।’
আনিসুজ্জামান বললেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যাচ্ছি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। আমরা আদালতের কাছে আবেদন রাখব, লামিসা হত্যার মামলাটি যেমন দ্রুত রায় এসেছে, এ মামলাটিও যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়।’
অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় গতকাল রাতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে। কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী গত শুক্রবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ছিল। গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি সানন্দা এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ প্রাঙ্গণে। এরপর বেলা ১১টার দিকে গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীর জানাজা শেষে বাড়ির কাছেই গন্ধমতি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
অপ্রতিমের দাদার বাড়ি কুষ্টিয়ায়, নানার বাড়ি চাঁদপুরে। স্বজনরা জানিয়েছেন, পরিবারের ইচ্ছায় অপ্রতিমকে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার স্থান গন্ধমতির বাড়ির পাশে দাফন করা হয়েছে।
এদিকে, অপ্রতিমকে হত্যার বিচারের দাবিতে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, কুমিল্লা শহরে কোনো মানুষ নিরাপদ না। শহরবাসীর নিরাপত্তার দাবি নিয়ে জড়ো হয়েছেন তারা।





