গ্যাস, বিদ্যুৎ দিচ্ছেন না বলেই আমাদের লংমার্চ: ডা. শফিকুর

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
এখন আমাদের স্লোগান ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’। আপনারা দিচ্ছেন না বলেই আমাদের এই লংমার্চ- এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে বগুড়ার মাটিডালীতে ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।
পথসভায় সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেছেন, আপনারা যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করতেন তাহলে আমাদের লংমার্চের জন্য রাস্তায় নামতে হত না। আপনারা বলেছেন এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবেন। কিন্তু এক কোটি মানুষকে চাঁদাবাজ বানিয়েছেন। দুর্নীতির রেইট বাড়িয়েছেন।
আমাদের নতুন কোনো স্লোগান নেই উল্লেখ করে ডা. শফিকুর বক্তব্য দেন, বলেছিলেন গ্যাস দেবেন, বিদ্যুৎ দেবেন। এখন যিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি তিনি তখন বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন মাঠে-ময়দানে। তখন তার স্লোগান ছিল গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে। এখন আমাদের স্লোগান গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে। আমাদের নতুন কোনো স্লোগান নেই। আপনারা দিচ্ছেন না বলেই আমাদের লং মার্চ।
দেশের মানুষের চাকরির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বললেন, আমাদের সন্তানদের চাকরির অধিকার কেড়ে নিয়েছেন আপনারা। আমাদের সন্তানরা চাকরির অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছে। ১৪’শ প্রাণ দিয়েছে। আমরা আরেকবার প্রাণ দিতে প্রস্তুত। তবু এই বৈষম্য আমরা বরদাস্ত করব না।
লংমার্চের পথে বগুড়ার এই সভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান আরও বললেন, আমার কৃষক বন্ধু সার পায় না। ১৪’শ টাকার সার কিনতে হয় ২২’শ টাকায়। বিদ্যুৎ দিতে পারেন না, আবার ডাবল, ট্রিপল বিল তুলে দেন আমাদের হাতে।
পথসভায় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আমাদের এই লড়াই আমাদের মুক্তির লড়াই। আমরা শুধু সরকার পরিবর্তন চাইনি। আমরা বাংলাদেশের পরিবর্তনের চেয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আবার রাস্তায় নেমে আসতে হবে। সরকারের সংস্কার চেয়েছি। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে, এই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে, এই সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে, এই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আবার আমাদের রাস্তায় নেমে আসতে হবে।
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। বিভিন্ন পথসভা শেষে লং মার্চের বহর বিকেল ৩ টার দিকে বগুড়ার মাটিডালী এলাকায় পৌঁছায়।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।




