হোয়াইট হাউজে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজ থেকে ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ থেকে তিনটি বড় সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, গণমাধ্যম তিনটির সাংবাদিকরা আর হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করতে পারবেন না।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এসব সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তার প্রশাসন ও দেশ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের সময় এসব সংবাদমাধ্যমের ‘কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য’ প্রচার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকরা নিষেধাজ্ঞার কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেছেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধারাবাহিক সংবাদই এর কারণ।
তিনি বলেছেন, ‘তাদের আমার বা জনগণের এই বাড়িতে ঢুকতে দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা আমার নেই।’
আর কোন সংবাদমাধ্যম একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে জানতে চাইলে ট্রাম্প দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের নাম উল্লেখ করেন। তিনি এসব সংবাদমাধ্যমকেও ‘ভুয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে নিষেধাজ্ঞাটি ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প এটিকে ‘খুব সাধারণ নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কিন্তু সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ, সংবাদ সম্মেলন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা সংবাদ সংগ্রহের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পরিষ্কার করা হয়নি।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুরক্ষিত।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে তাকে হোয়াইট হাউজে প্রবেশের সুযোগ থেকে বাদ দেওয়া হলে তা সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
তবে প্রেসিডেন্টের নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান বা ছোট পরিসরের সাংবাদিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছুটা বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু হোয়াইট হাউজের সাধারণ সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ থেকে কোনো সংবাদমাধ্যমকে তাদের প্রকাশিত সংবাদ বা মতের কারণে বাদ দেওয়ার বিষয়টি আলাদা আইনি প্রশ্ন তৈরি করে।
এটি ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধের সর্বশেষ ঘটনা। দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রশাসন এর আগেও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধে জড়িয়েছে। এবার একসঙ্গে তিনটি বড় সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প এ ঘোষণা দিলেন। ৩ নভেম্বরের ওই নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে রিপাবলিকানরা।
সাম্প্রতিক রয়টার্স/ ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন সামান্য বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে। তবে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
একই জরিপে কংগ্রেসের ভোটে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৪ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৩৭ শতাংশ পাওয়া গেছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সূত্র : বিবিসি




