পরীক্ষায় নকল করায় ছাত্রদল ও হল সংসদ নেতাকে শাস্তি দিল ঢাবি

ছাত্রদল নেতা ফাতহুন কারিব চৌধুরী ও মুহসীন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য ফেরদাউস। ছবি: ডান দিক থেকে
বিভাগের পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল করার দায়ে দুই ছাত্র নেতাকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)।
অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে একজনকে ‘পরীক্ষা + ২’ এবং আরেকজনকে তুলনামূলক লঘু শাস্তি হিসেবে ‘পরীক্ষা +১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সভায় উপস্থিত থাকা এক সিন্ডিকেট সদস্য।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, অপরাধের মাত্রা বেশি হওয়ায় গুগল জেমিনি ব্যবহার করে নকল করার দায়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফাতহুন কারিব চৌধুরীকে ‘পরীক্ষা + ২’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গত ১১ জুন পরীক্ষা চলাকালে দুই পায়ের মাঝখানে মোবাইল ফোন রেখে তিনি জেমিনিতে প্রথম প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন বলে বিভাগ সূত্রে জানা যায়।
এদিন সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে তার উত্তরপত্র জব্দ করা হয়। জেমিনিতে পাওয়া উত্তরের সঙ্গে তার খাতায় লেখা দুই লাইনের হুবহু মিল পান শিক্ষকরা। ফলে তার ওই পরীক্ষা বাতিলসহ পরবর্তী আরও দুটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের দায়ে একই বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (১৮তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী মো. ফেরদাউসকে ‘পরীক্ষা + ১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য।
জানা যায়, বিভাগের ১০৭ নম্বর কোর্সের রিটেক পরীক্ষা চলাকালে শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে বিভাগের করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন নিয়ে চ্যাটজিপিটিতে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে ফেরদৌস। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাকে হাতেনাতে ধরেন।
শাস্তি অনুযায়ী, ফেরদৌসকে ওই কোর্সের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী একটি সেমিস্টারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
শাস্তি পাওয়া ফাতহুন কারিব চৌধুরী মন্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিলেন আরেক অভিযুক্ত ফেরদৌস। বললেন,‘পরীক্ষার আগের দিন রাত থেকে আমার ছোট ভাই গুরুতর অসুস্থ ছিল। পরীক্ষার দিন সকালে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার জন্য বাড়িতে ফোন করার চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাই। বিষয়টি নিয়ে আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালীন একপর্যায়ে আমার ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলে আমি হল থেকে বাইরে বের হই। সে সময় আমার বিভাগের এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে, ছোট ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তার ফোন ব্যবহার করে বাড়িতে একটি কল দেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় দায়িত্বরত শিক্ষক বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং পরবর্তীতে আমাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়।’
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদ মোট ৬৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির সুপারিশ করে। পরবর্তীতে সিন্ডিকেটে সেটা পাশ হয়। এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’




