অপ্রতিম হত্যায় চারজন শনাক্ত, আটক ২

নিহত অপ্রতিম
‘আমার ছেলেরে আমি কই খুঁজব, জঙ্গলে নাকি পানিতে’— ছেলে নিখোঁজের পর দিশাহারা হয়ে কথাটি ফেসবুকে লিখেছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা নাহিদ। বিভিন্ন স্থানে চলছিল তার খোঁজ। অনেকেই শিশুটির ফেরার আশায় ছিলেন। ২০ ঘণ্টা পর শিশুটির সন্ধান পাওয়া গেছে জঙ্গলে, তবে জীবিত নয়, মৃত হিসেবে।
শুক্রবার রাত ও শনিবার সকাল থেকেই নাহিদার ফেসবুক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে সামাজিকমাধ্যমে। আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে অপ্রতিমের বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। পাশাপাশি নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে পুলিশের জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা মুন অ্যালার্টেও বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অপ্রতিমকে জীবত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে বিনোদন পার্ক ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’সংলগ্ন দক্ষিণ সানন্দা এলাকার জঙ্গলে পাওয়া যায় তার মরদেহ।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ৪ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এরমধ্যে দুইজনকে আটক করা হয়েছে, একজনের নাম তুহিন। অপরজনের নাম পুলিশ তদন্তের স্বার্থে বলছে না। শুক্রবার দুপুরে মায়ের আইফোন অগোচরে নিয়ে ছবি তুলতে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় অপ্রতিম।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সন্ধ্যা ৬টায় আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘নিহত অপ্রতিমের সাথে সিসিটিভির ফুটেজে যাকে দেখা যাচ্ছে সেই হলো সানন্দা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে তুহিন। এই ঘটনায় আমরা এখন পর্যন্ত চারজনকে শনাক্ত করেছি। দুইজনকে আটক করলেও তদন্তের স্বার্থে আরেকজনের নাম প্রকাশ করছি না।’
এদিকে, সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর মুষড়ে পড়েছেন মা নাহিদা। কুমিল্লার কোটবাড়ির বাসায় গিয়ে দেখা যায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। বলছেন, ‘এটা কোন দেশ? আমি বাঁচব কীভাবে? আমার তো একটাই ছেলে। কীভাবে আমার জীবন কাটাব? আপনারা সবাই বলেন, ওকে ছাড়া আমি আমার জীবন পার করব কীভাবে? এভাবেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।’
‘আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে আমি জানতে চাই, আমাকে জবাব দেন। আমি এই কুমিল্লায় চাকরি করতে আসছি, এটাই কি আমার অন্যায়? আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে, আমি শুধু সেটার জবাব চাই।’ কাঁদতে কাঁদতেই বলছিলেন নাহিদা।
পুলিশ ধারণা করছে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে তার হাতে থাকা আইফোনের জন্য। সিসিটিভি ফুটেজেও অপ্রতিমের হাতে আইফোন দেখা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, অপ্রতিম একটি মার্কেটের সামনে অপর এক কিশোরের সঙ্গে আলাপ করছে। এরপর ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে ওই কিশোরের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছে। পুলিশ সুপার বলছেন, এই কিশোরই তুহিন।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি মোবাইল ফোনের জন্যই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এরই মধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তুহিন নামের একজনকে আটক করেছি।’
অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। এদিকে, অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।






