বাড়ির পাশেই চিরঘুমে অপ্রতিম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের জানাজা। ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার কোটবাড়ীর গন্ধমতি এলাকার বাড়িতে ১৩ বছর আগে জন্ম অপ্রতিমের। বেড়ে ওঠা এই এলাকাতেই। দুই দফা জানাজা শেষে সেই বাড়ির পাশের কবরস্থানে আজ দাফন হলো তার।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে গতকাল তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে কুবির কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা হয়। অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে সেখানে পরে বিক্ষোভ করেন কুবি শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয় জানাজার জন্য মরদেহ নেওয়া হয় কোটবাড়ীর গন্ধমতি এলাকায় তাদের বাসা নুরজাহান ভিলায়।
বেলা ১১টার দিকে গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীর জানাজা শেষে বাড়ির কাছেই গন্ধমতি কবরস্থানে তার দাফন হয়।
অপ্রতিমের দাদার বাড়ি কুষ্টিয়ায়, নানার বাড়ি চাঁদপুরে। স্বজনরা জানিয়েছেন, পরিবারের ইচ্ছায় অপ্রতিমকে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার স্থান গন্ধমতির বাড়ির পাশে দাফন করা হয়েছে।
দুই জানাজায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিপুল মানুষ অংশ নেন। এ সময় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
এদিকে, অপ্রতিমকে হত্যার বিচারের দাবিতে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
তারা বলছেন, কুমিল্লা শহরে কোনো মানুষ নিরাপদ না। শহরবাসীর নিরাপত্তার দাবি নিয়ে জড়ো হয়েছেন তারা।



