সড়ক সংস্কার করেন ছাত্তার

রাস্তা মেরামতের জন্য আনা হয়েছে ইট
ভাঙাচোরা, খানাখন্দে ভরা ও বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায় একসময় চলাচল করা ছিল দুষ্কর। রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বাদের হাসপাতালে নিতে পোহাতে হতো সীমাহীন ভোগান্তি। অনেক সময় গ্রামে ঢুকতে পারত না যানবাহন। নিজ খরচে সেসব রাস্তা সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন আবদুস ছাত্তার সিকদার।
জনপ্রতিনিধি নন, তবু মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে নিজের অর্থায়নে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের ৬২টি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করে দিয়েছেন বহুরিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল সিকদারের ছেলে ব্যবসায়ী আবদুস ছাত্তার সিকদার। তার এমন উদ্যোগে বদলে গেছে গ্রামীণ এই জনপদের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান এবং মন্দিরে যাওয়ার রাস্তায় ভাঙা ইট, মাটি, বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করেছেন। তিন বছরে এসব কাজের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন। আড়াইপাড়া, গভড়া, দিগুলিয়া, গুদিরপাড়া, ভাতকুড়া, বেতরাসিন, কাহেতারা, আনাইলবাড়িসহ বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা, আধাপাকা এবং পাকা সড়ক সংস্কার করেছেন তিনি।
বহুরিয়া ইউনিয়নের গোহাইল বাড়ির ব্যবসায়ী সোহেল মিয়ার ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি না হয়েও মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ দূর করতে অনেক বছর ধরেই কাজ করছেন আবদুস ছাত্তার সিকদার। তবে তিন বছরে ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের ৬২টি সড়কে ভাঙা ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ইউনিয়নে সরকারি অর্থে সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। বহুরিয়া ইউনিয়নটি নিচু এলাকা হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আবদুস ছাত্তার সিকদার সরকারি অথবা কোনো সংগঠনের অর্থায়নের আশায় না থেকে মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের সংস্কারকাজ অব্যাহত রেখেছেন। তা না হলে মানুষের চলাচল ব্যাহত হতো।
বর্ষা মৌসুমে কোনো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে খবর দেন। খবর পেলেই নিজের ইটভাটা থেকে পাঠিয়ে দেন গাড়িভর্তি ইট। রাস্তা সংস্কারের কাজে ব্যবহারের জন্য তার ইটভাটায় মজুদ রাখা হয়েছে ভাঙা ইট।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়ক সংস্কারে সরকারি বরাদ্দ থাকলেও তা অপ্রতুল। এমন বাস্তবতায় জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অর্থ ব্যয়ে রাস্তা মেরামত করে দেওয়ায় এলাকায় পরোপকারী হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। স্ত্রী, তিন মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে আবদুস ছাত্তার সিকদারের সংসার। শুধু রাস্তা সংস্কারই নয়, এলাকার মানুষের নানা সমস্যা-সংকটেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।
বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু সাঈদ তালুকদার ছাদুর মন্তব্য, জনপ্রতিনিধি না হয়েও মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করা যায়, তার উদাহরণ ছাত্তার। তিনি এরই মধ্যে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে বদলে দিয়েছেন গ্রামীণ জনপদ। কাজ করে তিনি কুড়িয়েছেন গ্রামের মানুষের ভালোবাসা। তিনি যোগ করেন, ছাত্তারের বাবাও একসময় অসহায় গরিব মানুষের বিপদে পাশে থাকতেন।
আবদুস ছাত্তার সিকদার বললেন, ‘বাবা মারা গেছেন প্রায় আট বছর হলো। তখন থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই বাবার কথা স্মরণ করে কাজ শুরু করেছি। তবে তিন বছর ধরে বহুরিয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের কাজ করে যাচ্ছি। কিছু পাওয়ার আশায় আমি এই কাজ করছি না।’


