মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ঢাকার ডুবন্ত রাস্তায় ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল ছোট্ট আল মাহমুদ

আল মাহমুদ এভাবেই পথচারী ও যানবাহনকে সতর্ক করছিল
মধ্যরাতের আগে থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন প্রধান সড়ক। পাশাপাশি নিচু এলাকাগুলোতেও পানি জমে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বেলা ১১টা পর্যন্ত পুরানা পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিলের অনেক সড়ক থেকে পানি পুরোপুরি নামেনি। কোথাও কোথাও প্রায় হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়েছে পথচারীদের।
এর মধ্যেই রাজধানীর মতিঝিল এলাকার টয়েনবি সার্কুলার রোডে পানির নিচে থাকা একটি ভাঙা ম্যানহোল নজরে আসে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল মাহমুদের। ১১ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী বুঝতে পারে, পানির নিচে থাকা গর্তটি না দেখে কোনো যানবাহন বা পথচারী সেখানে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দুর্ঘটনার আশঙ্কা বুঝতে পেরে অন্য কারও অপেক্ষা না করে নিজেই একটি লাঠি হাতে পানিতে নেমে পড়ে আল মাহমুদ। ম্যানহোলের গর্তটির সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে যানবাহন ও পথচারীদের সতর্ক করতে থাকে সে। তার সতর্কতায় চালক ও পথচারীরা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি এড়িয়ে চলাচল করেন।
আল মাহমুদ বলে, ‘আমি দেখতে পেলাম এখানে একটি বড় গর্ত রয়েছে। এই গর্ত না বুঝে গাড়ি চলাচল করলে সেখানে আটকে যেতে পারে বা বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমি নিজে নেমে যানবাহনকে সতর্ক করেছি।’
শিশুটির এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ওই সড়কে চলাচলকারী মানুষজনও। পথচারী নাবিল বলেন, ‘অনেক সচেতন মানুষও আল মাহমুদের মতো হয়তো চিন্তা করে না। সে নিজ উদ্যোগে এখানে দাঁড়িয়ে যানবাহনকে সতর্ক করেছে। এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
পিকআপচালক শাহীন বলেন, ‘এতটুকু ছেলে এখানে দাঁড়িয়ে আমাদের সতর্ক করছে যে পানির নিচে গর্ত রয়েছে। তার কারণেই আমরা সম্ভাব্য দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গিয়েছি। এটা খুবই ভালো একটি কাজ।’
বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্যদের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে আল মাহমুদের এই উদ্যোগ পথচারী ও চালকদের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।





