আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বিতরণের অনুমোদন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে যুক্ত হচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানও। তবে এ সুবিধা পেতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানের খেলাপিঋণের হার ২০ শতাংশের মধ্যে থাকা, পর্যাপ্ত মূলধন রাখা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত তারল্য ও ঋণসীমার নিয়ম মেনে চলা অন্যতম।
আজ রবিবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে গত জুনে সিএমএসএমই খাতের জন্য ‘চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল’ নামে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। এতদিন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল। নতুন নির্দেশনায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই সুযোগ দেওয়া হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপিঋণের হার ২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, তারাই এ তহবিলের অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত মূলধন থাকতে হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী নগদ জমা সংরক্ষণ অনুপাত (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ অনুপাত (এসএলআর) সংরক্ষণ করতে হবে।
এ ছাড়া একক গ্রাহক ঋণসীমা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মানতে হবে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে তিন বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ও তারল্য ব্যবস্থাপনাও সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকতে হবে।
উদ্যোক্তারা পাবেন সর্বোচ্চ ৯ শতাংশে ঋণ
বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুনে সিএমএসএমই খাতের চলতি মূলধনের সংকট কাটাতে ৫ হাজার কোটি টাকার এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, শ্রমনির্ভর ও কম পুঁজিনির্ভর এ খাতে প্রয়োজনের তুলনায় চলতি মূলধনের সরবরাহ কম থাকায় অনেক উদ্যোক্তা পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না।
এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও ব্যবসা বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যেই তহবিলটি গঠন করা হয়। এর মেয়াদ প্রাথমিকভাবে তিন বছর।
এই তহবিল থেকে ব্যাংক ও এখন নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে অর্থ নিতে পারবে। পরে উদ্যোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বা বিনিয়োগ দিতে হবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের সুদ প্রতি তিন মাসে পরিশোধ করতে হবে।
শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ও প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখাও নিজস্ব নিয়মে এই অর্থ নিয়ে গ্রাহকদের বিনিয়োগ সুবিধা দিতে পারবে।
খেলাপিরা ঋণ পাবেন না
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি তালিকায় কোনো উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে এই তহবিল থেকে ঋণ দেওয়া যাবে না। তবে আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা প্রাক্-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় চলতি মূলধন ঋণ নেওয়া উদ্যোক্তারাও শর্তসাপেক্ষে নতুন তহবিলের সুবিধা নিতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে উদ্যোক্তার প্রকৃত ঋণের চাহিদা যাচাই করে নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থ দিতে হবে।
ঋণ নেওয়ার পর উদ্যোক্তারা তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। অর্থাৎ এ সময়ে তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শিডিউল অব চার্জেসের বাইরে উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ফি, চার্জ বা কমিশন নেওয়া যাবে না।
নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধনের জোগান দিতে পারবে। এতে বিশেষ করে ব্যাংকের বাইরে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ছোট উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ বাড়বে। তবে তহবিলের অর্থ পেতে হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মূলধন, তারল্য, খেলাপিঋণ ও ঋণসীমার শর্ত মেনে চলতে হবে। এর ফলে দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই তহবিলের আওতায় না এনে তুলনামূলকভাবে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলো।



