মমতার কাছে ফের কংগ্রেসের ডাক

ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায়— সংগৃহীত ছবি
এক সময় কংগ্রেস ভেঙেই তৈরি করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি এবার সব সংসদ সদস্য, বিধায়ক এবং দলীয় শক্তি নিয়ে কংগ্রেসে ফিরে আসতে চান, তা হলে তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত দলটি। শুধু তাই নয়, মমতা কংগ্রেসে যোগ দিলে তার নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে লড়তে আপত্তি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তবে সেই প্রস্তাবে একটি শর্তও জুড়ে দিয়েছেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়েই কংগ্রেসে যোগ দিতে হবে মমতাকে।
সাংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার অধীরের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তার বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তার হাতে থাকা সব সংসদ সদস্য, বিধায়ক এবং রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিতে চান, তা হলে কংগ্রেসের আপত্তির কোনো কারণ নেই। বরং তার নেতৃত্বেই বাংলায় নির্বাচনী লড়াই চালাতে প্রস্তুত কংগ্রেস।
অধীরের এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য যথেষ্ট। কারণ, এক সময় কংগ্রেসেরই নেত্রী ছিলেন মমতা। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সেই দলই পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে। পরপর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় থেকেছে তৃণমূল।
কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে ওঠার প্রেক্ষিতে অধীরের এই প্রস্তাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বে পৃথক রাজনৈতিক উদ্যোগ, অন্য দিকে সংসদ সদস্যদের একাংশকে ঘিরে এনসিপিআই জোটের তৎপরতা এবং কালীঘাটের মূল তৃণমূল—এই তিনটি রাজনৈতিক বলয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসছে আলোচনায়।
এক সময় যে কংগ্রেস ছেড়ে মমতা নিজের রাজনৈতিক দল গড়েছিলেন, সেই কংগ্রেসেই তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে অধীরের মন্তব্য বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের প্রশ্ন তুলে দিল। যদিও এটি অধীরের রাজনৈতিক প্রস্তাব, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।



