মোদিকে ‘যুববিরোধী প্রধানমন্ত্রী’ বললেন রাহুল
- ককরোচ বিক্ষোভে এক কিশোরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জন আহত
- বিজেপি শাসনামলে ভারতে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে

রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদি
সংসদ অভিযানের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে যুববিরোধী প্রধানমন্ত্রী’ বলে মন্তব্য করেন।
রাহুলের দাবি, নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে রাস্তায় নামা ছাত্রছাত্রীরা কোনো অপরাধী নয়। তারা নিজেদের অধিকার এবং ন্যায্য শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করছে। তাদের কথা শোনার বদলে পুলিশি শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ছাত্রদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়া এবং লাঠিচার্জ করা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নয়। এভাবে আন্দোলন দমন করা ভারতের সংস্কৃতির সঙ্গেও মানানসই নয়। কেন্দ্রের উচিত ছাত্রদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া।
রাহুল আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। তার দাবি, পরীক্ষায় বারবার অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কোটি কোটি পড়ুয়া। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও দাবি করেন।
কংগ্রেস সাংসদ আরও দাবি করেন, দেশে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রায় ৭ দশমিক ৫ কোটি ছাত্রছাত্রী এর প্রভাবের শিকার হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হয়নি। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাও ছাত্রদের ওপর পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
একই সঙ্গে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো এবং কয়েকজন আন্দোলনকারীর ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগ ঘিরেও উত্তেজনা বেড়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংসদ অভিযানের সময় পুলিশ গীতাঞ্জলি অ্যাংমোর চুল টেনে হেনস্তা করেছে। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ করেন, এক কিশোরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।




