উত্তাল ভারতে রাহুলের পদযাত্রায় পুলিশের বাধা

নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আরও বেড়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। ছাত্রদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছে বিরোধী জোট। রাজপথে বিক্ষোভ, সংসদে অচলাবস্থা; দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছে কেন্দ্র সরকার। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটের নেতারা গান্ধী স্মৃতির উদ্দেশে পদযাত্রার উদ্যোগ নেন। সংবিধানের একটি কপি হাতে নিয়ে মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাহুল। তার সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেসহ জোটের একাধিক সংসদ সদস্য।
রাহুলের সুনেহরি বাগ রোডের বাসভবন থেকে তিনটি বাসে করে গান্ধী স্মৃতির উদ্দেশে রওনা দেন বিরোধী নেতারা। তাদের হাতে ছিল নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড। অনেকেই মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।
তবে যাত্রাপথেই পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে যায় বিরোধীদের বহর। কয়েক মিনিটের জন্য তৈরি হয় অচলাবস্থা। ঘটনাস্থলেই কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করেন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই তারা বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের গান্ধী স্মৃতিতে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদের আন্দোলন এবং বিরোধীদের কর্মসূচির জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে সেন্ট্রাল দিল্লি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে প্রশাসন। একাধিক সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভের প্রভাব পড়ে নগরজীবনেও। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই রাজধানীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র কোনট প্লেসের সব দোকান বন্ধ করে দেয় দিল্লি পুলিশ। নিরাপত্তার স্বার্থে সেন্ট্রাল দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়। যাত্রীদের বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই দিল্লিতে আন্দোলন চলছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেসসহ ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে প্রশাসন।




