ভারতে অনুমোদন পেল ডেঙ্গুর টিকা

ফাইল ছবি
বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগী। এরই মধ্যে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। বছরের মাঝামাঝি এসে মৃত্যুও েবড়েছে আগের মাসগুলোর তুলনায় কয়েকগুণ। দেশে ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমূখী প্রকোপের মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোতে শোনালো আশার খবর। দেশটিতে প্রথমবারের মতো অনুমোদন পেয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা।
গতকাল মঙ্গলবার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করার পর টিকাটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানও নিশ্চিত করেছে বিষয়টি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি বলেছে, জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদার তৈরি কিউডেঙ্গা টিকাটি ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষের জন্য অনুমোদন পেয়েছে।
ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) টিকাটির গুণগত মান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনার পর দিয়েছে এই অনুমোদন। টিকাটি তিন মাসের ব্যবধানে দুই ডোজে নিতে হবে।
অন্যদিকে কোম্পানিটির ভাষ্য, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম কিউডেঙ্গা। টিকা নেওয়ার জন্য কোনো প্রাক্-টিকাদান পরীক্ষারও প্রয়োজন হবে না। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তি বা পূর্বে আক্রান্ত হয়েছিল এমন ব্যক্তিও নিতে পারবে এই টিকা।
প্রতিবছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১০০টিরও বেশি দেশের নাগরিক। তবে গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে এর প্রকোপ বেশি। সব মিলিয়ে বিশ্বের ৪০০ কোটি মানুষ রয়েছে এর ঝুঁকিতে।
ভারতের সরকারি হিসাবে, গত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১ গুণ। বিশ্বের মোট ডেঙ্গু রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতের বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য গবেষকদের ধারণা, প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি।
তাকেদা জানিয়েছে, কিউডেঙ্গার কার্যকারিতা মূল্যায়নে ফেজ-১ থেকে ফেজ-৩ পর্যন্ত ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ডেঙ্গুপ্রবণ ও অ-ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে আটটি ডেঙ্গুপ্রবণ দেশের ২০ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে ফেজ-৩ পরীক্ষা চালানো হয়।
কোম্পানির দাবি, দ্বিতীয় ডোজের এক বছর পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। ডেঙ্গুজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণেও টিকাটি ডেঙ্গুজনিত গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা দিয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
বর্তমানে কিউডেঙ্গা এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার ৪৩টি দেশে অনুমোদিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় টিকাটি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতেও এটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারতের বাজারে টিকাটি পর্যায়ক্রমে সরবরাহে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছে তাকেদা।




