প্রথম সপ্তাহেই বাস ভাড়া কমানোর বার্তা বার্নহ্যামের
- বাসে চড়ে বাথে বার্নহ্যাম

ইংল্যান্ডের বাথ শহর সফরকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বাসে ভ্রমণ করেন ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং ওয়েস্ট অব ইংল্যান্ডের মেয়র হেলেন গডউইন; সঙ্গে তোলেন ছবিও। ছবি: রয়টার্স
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরতে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক শহর বাথ সফর করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর লক্ষ্যে তিনি গণপরিবহনকে সামনে আনেন। সফরে বার্নহ্যাম স্থানীয় বাসসেবা পরিদর্শন করেন, যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং একটি ফার্স্ট গ্রুপ বাসে উঠে চালকের আসন ও পরিচালনাব্যবস্থা ঘুরে দেখেন।
বাথ সফরে বার্নহ্যাম ঘোষণা করেছেন, ইংল্যান্ডে (লন্ডন ছাড়া) একক বাসযাত্রার সর্বোচ্চ ভাড়া ৩ পাউন্ড থেকে কমিয়ে ২ পাউন্ড করা হবে। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত খরচ কমানো এবং কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি পরিষেবায় পৌঁছানো সহজ করা।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তার সরকার এমন পদক্ষেপ নিতে চায়— যার সুফল মানুষ দ্রুত অনুভব করতে পারবেন। এক বিবৃতিতে বার্নহ্যাম বলেছেন, ‘আমি এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রত্যেক মানুষ, প্রতিটি এলাকার মানুষ সুযোগের সঙ্গে আরও ভালোভাবে যুক্ত থাকতে পারবেন। এর অর্থ হলো, আরও সংযুক্ত সম্প্রদায়, সুযোগে সহজ প্রবেশ এবং মানুষের জীবনের ওপর চাপ কিছুটা কমানো।’
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বাসভাড়া কমানোর এ কর্মসূচিতে প্রায় ৪৫৪ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে। অর্থের জোগান দিতে সরকারের পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তা বিভাগের বাজেট পুনর্বিন্যাস করা হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের কিছু অনুদানকে ঋণে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। বার্নহ্যাম সরকারের এই উদ্যোগ জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপ কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বার্নহ্যাম বারবার জানিয়েছিলেন, তার সরকার এমন নীতি গ্রহণ করবে, যার প্রভাব সাধারণ মানুষ সরাসরি বুঝতে পারবেন। তবে এ ঘোষণাকে ঘিরে অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। বিরোধীরা জানতে চেয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে এ ভর্তুকি কীভাবে বহাল রাখা হবে। সমালোচকদের দাবি, সরকারের প্রতিটি ব্যয় পরিকল্পনার জন্য স্পষ্ট অর্থের উৎস দেখানো প্রয়োজন। তবে বার্নহ্যাম সরকার জানিয়েছে, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেই সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।




