‘ভুতুড়ে’ সিরিজ খেলে ফিরল বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার সমীকরণে সামনের সিরিজগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ আছে
ভাগ্যিস, বিশ্বকাপ ফুটবল চলছিল, আর মানুষ মজেছিল তাতে। তাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ চরম ভরাডুবিতেও কোনো শব্দ হয়নি। যে দল পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে, সেই বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যায়নি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। দেশের মাঠে জায়ান্টদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ী বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ে গিয়ে একমাত্র টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডে সিরিজও হেরেছে। ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতায় পেয়েছে খানিক স্বস্তি।
ধারাবাহিক ভালো করা দলটি কেন এতটা হতাশ করল, সেই ব্যাখ্যা নেই প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কাছেও, ‘দল খুব ভালো ছন্দে ছিল। টেস্টে সেরা পেসাররা খেলতে পারেনি। তবুও এত খারাপ হওয়ার ছিল না। কিন্তু ওয়ানডেতে পূর্ণ দল খেলেছে। এরপরও ফল খারাপ। আমার কাছে ভুতুড়ে মনে হয়েছে। অনেক দিন পর বিদেশি কন্ডিশন একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। অবশ্য ওই কন্ডিশনেও আমরা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সব সিরিজ জেতার মতো দল।’
কিন্তু হাবিবুল বাশারের বিশ্বাস ভেঙে যায় দলের পারফর্মে। শুরুটা সাদা পোশাকে। দুই ইনিংস মিলিয়ে দুইশর কোটা পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১৪০, দ্বিতীয়টিতে ১৮৫। জিম্বাবুয়ে তাদের ইনিংসে করে ৪১০ রান। সুবাদে হার ইনিংস ও ৮৫ রানের।
ওয়ানডেতে প্রথম ম্যাচে ১৪২ রানের লক্ষ্যে নেমে ১১৬ রানে অলআউট হওয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে ২৪৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ২৩৪-এ থেমে যাওয়া। শেষ ম্যাচে ৩৬ ওভারে ২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে না জিতলে হোয়াইটওয়াশ হতো।
এ সফরে ব্যাটাররা হতাশ করেছেন। গতকাল বুধবার দেশে ফিরে দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলও মেনে নিয়েছেন ‘ব্যাটিং ব্যর্থতার ভূত’ আবার ভর করেছে দলের ওপর।
উইকেটে বাড়তি বাউন্সকে দায়ী করেছেন আশরাফুল, ‘বাড়তি বাউন্সে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগেছে। টেস্টে আমরা ভালো করতে পারিনি। পরে তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে আমরা বাড়তি বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছি। এই সফরের অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও কাজে দেবে।’
ব্যাটিং কোচ ম্যাচ প্রস্তুতির অভাবকেই অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন, ‘এখন আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে অনুশীলন ম্যাচ হয় না। একটা তিন দিনের ম্যাচ বা ওয়ানডে ম্যাচ থাকলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হতো।’
জিম্বাবুয়ে সফরটি হতাশায় কাটলেও আশরাফুল বলছেন এটা সাময়িক ধাক্কা, ‘সাত মাস ধরে আমাদের ব্যাটাররা খুবই ভালো করেছে। একটা সিরিজ খারাপ হতেই পারে। আমি আমার জায়গা (ব্যাটিং কোচ) থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
জিম্বাবুয়ে সফরের ওয়ানডে সিরিজ হারায় বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার সমীকরণে সামনের সিরিজগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ আছে। কারণ, আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত র্যাংকিং উন্নতি করার সুযোগ থাকছে।
এই সমীকরণে বাংলাদেশের লড়াই মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে আছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে বলে নিরাপদ অবস্থানেই আছেন মিরাজরা। ৩১ মার্চ পর্যন্ত নবম অবস্থান ধরে রাখলে বাছাই পর্ব খেলতে হবে না।
এ মুহূর্তে বাংলাদেশের ঠিক পরেই আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যাদের রেটিং ৭৭। সেপ্টেম্বরে ভারতের সঙ্গে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। র্যাংকিংয়ে নবম স্থান পোক্ত করতে হলে এই সিরিজ জিততে হবে। তবে একটি ম্যাচ হারলেই রেটিং পয়েন্ট কমবে।
বাংলাদেশের সামনে অবশ্য আরও সুযোগ আছে। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পিছিয়ে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজ আছে। এ ছাড়া ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আছে আরও তিনটি ওয়ানডে। এই সিরিজগুলো জিতলে র্যাংকিংয়ে উন্নতির ভালো সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।
জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশ
একমাত্র টেস্ট
বাংলাদেশ: ১৪০ ও ১৮৫
জিম্বাবুয়ে: ৪১০
ফল: জিম্বাবুয়ে ইনিংস ও ৮৫ রানে জয়ী
ওয়ানডে সিরিজ
প্রথম ম্যাচ
জিম্বাবুেয়: ১৪১
বাংলাদেশ: ১১৬
ফল: জিম্বাবুয়ে ২৫ রানে জয়ী
দ্বিতীয় ম্যাচ
জিম্বাবুয়ে: ২৪৭/৬
বাংলাদেশ: ২৩৪
ফল: জিম্বাবুয়ে ১৩ রানে জয়ী
তৃতীয় ম্যাচ
জিম্বাবুয়ে: ১৯৯
বাংলাদেশ: ২০০/৩
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী
টি-টোয়েন্টি সিরিজ
প্রথম ম্যাচ
জিম্বাবুয়ে: ১৭০/৬
বাংলাদেশ: ১৩৮
ফল: জিম্বাবুয়ে ৩২ রানে জয়ী
দ্বিতীয় ম্যাচ
বাংলাদেশ: ১৮৬/৫
জিম্বাবুয়ে: ১৫২
ফল: বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী
তৃতীয় ম্যাচ
জিম্বাবুয়ে: ১৪৩/৭
বাংলাদেশ: ১৪৪/৬
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেট জয়ী




