নির্মাতার বয়ান
আমার ওডিসি
- হোমারের মহাকাব্য ‘ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত ‘দি ওডিসি’ নিয়ে গণমাধ্যমে নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের বাছাইকৃত অংশের অনুবাদ

দি ওডিসি। চলচ্চিত্রকার: ক্রিস্টোফার নোলান
শাশ্বত সত্য বলে একটি ব্যাপার রয়েছে। মানুষ ও মানবসভ্যতা বিষয়ক কোনো কিছু আদতে বদলায় না। হোমারের ‘ওডিসি’র মতো এত পুরনো একটি সাহিত্যকর্মের কাছে ফিরে যাওয়া আমার কাছে ইন্টারেস্টিং। কেননা এটি সত্যিকার অর্থেই পশ্চিমা সাহিত্যের অন্যতম পুরনো ও ভিত্তিমূলক রচনা। প্রায় তিন হাজার বছর ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এটি পড়ে আসছে। কারণ, এটি চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে রেখেছে।
‘ওডিসি’ একই সঙ্গে একটি প্রেমকাহিনি, যুদ্ধকাহিনি এবং ভবিষ্যৎ-কাহিনিও। এটি প্রেম, মৃত্যু, যুদ্ধের প্রভাব ও যুদ্ধশেষে ঘরে ফেরার গল্প। অনন্ত ধারার এই সাহিত্যকর্ম থেকে প্রচুর নাটক, সিনেমা ও অন্যান্য শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে। চিরন্তন সত্যের যে শাশ্বত আবেদন হোমার সৃষ্টি করে গেছেন, এই কাহিনি তার প্রকাশ ঘটিয়েছে।
‘দি ওডিসি’ সিনেমাটি বানাতে গিয়ে সময়ে সময়ে নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাদের। সব বন্দোবস্ত করার পরও গহিন সমুদ্রে এমন একটি প্রাচীন পালতোলা নৌকায় শুটিং করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। মরক্কো, গ্রিস, ইতালি, আইসল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র— ছয়টি দেশে অন লোকেশনে শুটিং করেছি। কেননা, কাহিনি আরও সমৃদ্ধ করতে এবং চরিত্রগুলোর অভিযাত্রা কতটা কঠিন ছিল, তা দৃশ্যবন্দি করে বাস্তব পৃথিবীর ভৌতরূপ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি। যে বিশ্বাসের ওপর ভর করে তারা একটি মানচিত্রহীন, অচেনা পৃথিবীতে পা বাড়িয়েছিল, তাও দেখানোর প্রচেষ্টা ছিল আমার। শুটিংয়ে এমন সব জায়গায় ছিলাম, সেগুলো সিনেমার কাজের চেয়ে বরং অভিযাত্রাই মনে হয়েছিল।
পৌরাণিক কাহিনি নিয়ে কাজ করাও আমার জন্য ইন্টারেস্টিং ছিল। এমন কাহিনি বেছে নেওয়ার অন্যতম ঝুঁকি হলো আধুনিক দৃষ্টিকোণের সঙ্গে এর ভারসাম্য গড়ে তোলা। আমি মূলত সিনেমা হলের দর্শকের জন্য সিনেমা বানাই। দর্শকই একধরনের প্রতিফলন হাজির করে আমার সামনে। আর আমাকে বলে দেয়, ফিল্মটি কেমন। ফলে আমার কাছে ফিল্মটি মুক্তি দেওয়ার আগ পর্যন্ত নিরীক্ষার শেষ হয় না। এরই অংশ হিসেবে ‘দি ওডিসি’তে দর্শককে ট্রোজানের ঘোড়াটির মধ্যেই রেখে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছি।





