মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, মামলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীতে রাতের আঁধারে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যালয়। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে ঘটে এ ঘটনা। সে সময় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভাঙা হয় রাড্ডার একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, সে সময় কার্যালয়ের বিভিন্ন সামগ্রী ও টিকাদানের সরঞ্জামও লুট হয়েছে।
এসব জানিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানালেন, মামলায় মিরপুরের বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচিত হানিফ মিয়া নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী আগামীর সময়কে বললেন, ‘রাড্ডার প্রায় ১০ কাঠা জমির মালিকানা নিয়ে কিছু বিরোধ রয়েছে। সে সুযোগে স্থানীয় বিএনপির নেতা হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে।’
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হানিফ মিয়া। তিনি বলছিলেন, ‘আমি এ ঘটনায় জড়িতই নই। আমি জানিই না সেখানে কী হয়েছে। আমার নাম মামলায় কে দিয়েছে?’ এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন বলেও জানালেন তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ২৫০ জনের বেশি লোক রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্থাপনায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলে। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ লেখা একটি সাইনবোর্ডও লাগিয়ে দিয়ে যায।
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ৫০ বছর ধরে দরিদ্র এবং অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতিসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। সেখানে হামলার ঘটনাটি কোনো সাধারণ ডাকাতি বা হামলা নয়। এখানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছে এবং দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।



