অসহায় মানুষের পাশে সরোয়ার

দরিদ্র শিশুদের খাবার দেন সরোয়ার
পেশাগত দায়িত্ব আনসার সদস্য হিসেবে। তবে দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো যেন জীবনেরই আরেকটি অংশ হয়ে উঠেছে আনসার সদস্য সরোয়ার উদ্দিন আনসারীর (২৭)। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মহানগর এলাকায়। এক দশকের বেশি সময় ধরে নীরবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
কখনো রক্তের প্রয়োজনে রোগীর পাশে, কখনো হাসপাতালের অপরিচিত পরিবেশে দিশাহারা স্বজনের সহযোগিতায়, আবার কখনো এতিম শিশু কিংবা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দেখা যায় তাকে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন সরোয়ার। এর পাশাপাশি অবসর সময়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় শিশুদের খাবার বিতরণ, প্রাথমিক শিক্ষা ও চিকিৎসায় সহযোগিতা, এতিম শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা, এতিম মেয়েদের যৌতুকমুক্ত বিয়েতে সহযোগিতা, বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত তিনি।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কেউ জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজনের কথা জানালে তা জোগাড় করে দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করেন সরোয়ার। তার দাবি, এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি রোগীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করেছেন তিনি। নিজেও রক্ত দিয়েছেন ১১ বার।
২০২১ সাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকেন্দ্রিক বিভিন্ন মানবিক সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছেন সরোয়ার। রোগী ও স্বজনদের ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য, প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেন তিনি।
সরোয়ার মনে করেন, বিপদে পড়া একজন মানুষকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করাও মানবসেবা। তাই হাসপাতালের করিডরে অসহায় কোনো রোগী বা স্বজনের সঙ্গে দেখা হলে সহযোগিতা করেন।
বিভিন্ন সময়ে এতিমখানা ও পথশিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন সরোয়ার। ঈদ ও রমজান উপলক্ষে নেন বিশেষ উদ্যোগ। অসহায় মানুষের হাতে তুলে দেন ঈদবস্ত্রসহ খাদ্যসামগ্রী। দুর্যোগকালেও নিজেকে যুক্ত রাখেন ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে। বন্যা, ঝড় কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি।
এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নিজের অর্থও ব্যয় করেন সরোয়ার উদ্দিন আনসারী। এ ছাড়া শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মীরাও বিভিন্ন সময়ে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেন। তাদের সহযোগিতা নিয়েই সরোয়ার দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম। শুধু নিজে কাজ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না সরোয়ার। শিক্ষার্থী ও তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেও কাজ করছেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আদর্শ ছাত্র ও যুব সমাজ’-এর সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায়ও ভূমিকা রাখছেন তিনি।
সরোয়ার উদ্দিন আনসারীর ভাষায়, সামাজিক কাজ মানে শুধু অর্থ দিয়েই কাউকে সহযোগিতা করা নয়। একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা, তাকে সঠিক তথ্য দেওয়া, জরুরি সময়ে রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়া কিংবা অসহায় মানুষের পাশে কিছু সময় দাঁড়িয়েও মানবিকতার পরিচয় দেওয়া যায়।
দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময়ের এই পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়লেও এ কাজ থেকে পিছপা হননি তিনি। মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রত্যাশা তার।



