পুলিশে ‘ফ্যাসিবাদের’ চর, কড়া হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে কথা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
পুলিশ বাহিনীর মাঠপর্যায়ে কেউ কেউ এখনো পতিত ফ্যাসিবাদীদের নানা খবর দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে তথ্য পেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাদের সামনে কঠোর পরিণতি অপেক্ষা করছে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
আজ শনিবার ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে, জনপ্রত্যাশার ওপর দাঁড়িয়ে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত সরকারের ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী।’
নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন না করলে কী হবে, সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাতেও অভিযুক্ত করতে আমরা পিছপা হব না। আশা করি মেসেজটা পেয়েছেন।
‘আমি তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত সবাইকে এই মেসেজ দিতে চাচ্ছি। সমাজের প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হব।’
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে এক বক্তব্যের জেরে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারি এলো।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আজকের দিনে এসে মাঠপর্যায়ে কর্তব্য পালন না করার, অবহেলা করার এবং ক্ষেত্রমতো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে কেউ কেউ গোপনে সংবাদ দিয়ে, অন্যভাবে সহযোগিতা করার তথ্য আমাদের কাছে আছে। কোনো পুলিশ অফিসার, যে পদধারী হোক, যদি জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে তার পরিণতি ভালো হবে না।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, তারা পুলিশ বাহিনীকেও অপব্যবহার করেছে। অনেকে বাধ্য হয়ে অবৈধ, বেআইনি নির্দেশ পালন করেছেন। আমরা সুযোগ দিয়েছে সংশোধনের, জনআস্থা অর্জনের। ছোট-খাটো ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা হবে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ এখন আমাদেরকে রাজা-বাদশা দেখতে চায় না। তারা জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। কোথাও এমন কোনো কাজ করবেন না, যা জনগণের কাছে অগণতান্ত্রিক লাগে।’
পুলিশে শিগগিরই সাইবার সিটিকউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে বলে জানান তিনি। এ ইউনিটে প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আস্থা অর্জন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশের যেমন অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাও। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পুলিশ বর্তমানে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ বাহিনীর দক্ষ ও নিষ্ঠাবান সদস্যরা পুলিশকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলবেন।






