আগামীর সময়কে জেনিফার লোপেজ
সবকিছুই আমার কাছে নাচ মনে হয়

জেনিফার লোপেজ
বিখ্যাত অনেক গানের পাশাপাশি সমালোচক প্রশংসিত বেশ কিছু সিনেমায় কাজ করেছেন জেনিফার লোপেজ। সম্প্রতি উইলিয়াম গোল্ডেনবার্গ পরিচালিত ও অভিনেতা বেন অ্যাফ্লেক প্রযোজিত ‘আনস্টপেবল’-এ জুডি রোবলস চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জনি হক
জেন, বাংলাদেশ থেকে বলছি...
জেনিফার লোপেজ: আপনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে ভালো লাগছে।
জন্ম থেকেই একটি পা না থাকা সত্ত্বেও নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে কুস্তি চ্যাম্পিয়ন হওয়া অ্যান্থনি রোবলসের বায়োপিক ‘আনস্টপেবল’-এ মায়ের ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য আপনাকে অভিনন্দন।
জেলো: ধন্যবাদ।
ব্যক্তিজীবনে আপনি একজন মা। সন্তানদের নিয়ে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা একজন মায়ের জন্য কেমন হয়ে থাকে, যেমনটি আমরা ‘আনস্টপেবল’ সিনেমায় দেখেছি...
জেলো: জুডি চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যক্তিজীবনে নিজের সন্তান থাকা আমার জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে। আমার মনে হয় না, এমন কোনো মা আছেন, যিনি চান না তার সন্তান সর্বোচ্চটা অর্জন করুক এবং সফল হোক। আর প্রতিটি শিশুরই নিজস্ব কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে। জুডির ক্ষেত্রে শুরুটাই ছিল অত্যন্ত কঠিন। অ্যান্টনির জন্মের সময় জুডির বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। আর অ্যান্টনি জন্মেছিল একটি পা ছাড়াই। অর্থাৎ সে নিজেই তখন একজন শিশু, অথচ তাকে এমন একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যেগুলোর সঙ্গে অনেক মানুষকে কখনোই লড়াই করতে হয়নি। যদিও কেউ কেউ হয়তো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
আপনার ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা কেমন?
জেলো: আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জুডি রোবলসের চ্যালেঞ্জ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যক্তিজীবনে অনেক পরে যমজ সন্তানের মা হয়েছি এবং আমার চ্যালেঞ্জগুলো ছিল ভিন্ন ধরনের। কিন্তু অবশ্যই জুডির সঙ্গে অনেকভাবে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পেরেছি। জুডি তার অভিজ্ঞতাগুলো আমার সঙ্গে খুব খোলামেলাভাবে ভাগ করে নিয়েছিলেন। ফলে তাকে পর্দায় যতটা সম্ভব বাস্তব ও আন্তরিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছি।
বায়োপিকে অভিনয় করা এবং কোনো কাল্পনিক চরিত্রভিত্তিক সিনেমায় কাজ করার মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য অনুভব করেছেন?
জেলো: দেখুন, প্রক্রিয়াটা অনেকটা একই রকম। তবে এক অর্থে দায়িত্বটা আরও বেশি। কারণ, আপনি যে মানুষের চরিত্রে অভিনয় করছেন, তিনি বাস্তব একজন মানুষ। তিনি এমন কোনো চরিত্র নন, যাকে আপনি নিজের কল্পনা থেকে তৈরি করছেন এবং অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটি গড়ে তুলছেন। বাস্তব একজন মানুষের চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় থাকে, যেগুলো অবশ্যই সঠিকভাবে তুলে ধরতে হয়। আর এটাও নিশ্চয়ই যে কেউ চাইবে, যার চরিত্রে অভিনয় করছি, তিনিও যেন অভিনয়টা পছন্দ করেন। সত্যি বলতে, যে চরিত্র করছি, সেই মানুষের কাছেই অভিনয় সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয় হওয়া উচিত। তাই জুডি ও অ্যান্টনির গল্পকে সম্মান করা এবং যতটা সম্ভব ভালোভাবে তুলে ধরা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর তাদের জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্পগুলো তারা আমার সঙ্গে খোলামেলাভাবে ভাগ করে না নিলে এটা করতে পারতাম না। আমার মনে হয়, সিনেমাটি তাদের জীবনকে অত্যন্ত সৎ, আবেগপূর্ণ এবং হৃদয়স্পর্শীভাবে তুলে ধরেছে।
আগামীকাল ২৪ জুলাই জেনিফার লোপেজের ৫৭তম জন্মবাির্ষকী
সিনেমাটির ট্যাগলাইন ‘কখনো হাল ছেড়ো না’। আপনার জীবনে প্রথম কখন মনে হয়েছিল, ‘আমি হাল ছাড়ব না’?
জেলো: সম্ভবত খুব ছোটবেলাতেই। তখন আমি খুবই ছোট। আমি একজন অ্যাথলেট ছিলাম। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ৮০০ মিটার আর ১৫০০ মিটার দৌড়াতাম। আমি ছিলাম সেই ধরনের শিশু, যে কোনো না কোনোভাবে কিছু অর্জন করতে চাইত। আর আমার মাথার ভেতর ছিল আমার মা-বাবার কণ্ঠস্বর। অনেকটা অ্যান্থনির সঙ্গে জুডির সম্পর্কের মতোই তারা বলতেন, ‘তুমি যেকোনো কিছু করতে পারো।’ তুমি যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চাও, তাহলে তুমি প্রেসিডেন্টও হতে পারো। আমার মা যখন এটা বলতেন, সত্যিই বিশ্বাস করতাম। মজার ব্যাপার হলো, মাথার ভেতরে সেই কণ্ঠস্বরগুলোই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই খুব ছোটবেলা থেকেই আমার মনে হয়েছে, কোনো কিছু কঠিন হলেও সেটি উতরে যাব। সেজন্য জীবনে এমন শৃঙ্খলা ও কর্মনিষ্ঠা দরকার, যা অনেক সময় আপনার মন যতটা সম্ভব বলে মনে করে, তারও সীমা ছাড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই মনোবলই আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
আমার শেষ প্রশ্ন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে আপনার গানের শ্রোতা অসংখ্য।
জেলো: (হাসি) জেনে ভালো লাগল।
গান কি অভিনয়ে কোনোভাবে সাহায্য করে?
জেলো: অবশ্যই, গান আমার অভিনয়ে সাহায্য করে। দুটির মধ্যেই একটি আবেগ ও আবেগপ্রবণতা আছে। যদিও তারা আলাদা। তবে আমার মনে হয়, সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমাকে অনেক সাহায্য করে। আমি সবকিছুকে কোরিওগ্রাফির মতো দেখি। এক অর্থে, সবকিছুই আমার কাছে একধরনের নাচ বলে মনে হয়। এমনকি সিনেমার দৃশ্যের ব্লকিং করার সময়ও বিষয়গুলো সেভাবে দেখি। তাই গান অবশ্যই আমাকে সাহায্য করে। এতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। বরং আমার মনে হয়, এটি আমার অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করে।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
জেলো: আপনাকেও ধন্যবাদ।
জেনিফার লোপেজকে নিয়ে দুছত্র
জেনিফার লোপেজ একাধারে গায়িকা, গীতিকার, অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও ব্যবসায়ী। নব্বই দশকের শুরুতে (১৯৯১-৯৩) ফক্স চ্যানেলের স্কেচ কমেডি সিরিজ ‘ইন লিভিং কালার’-এ নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করার পর অভিনেত্রী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। ‘সেলেনা’ ও ‘অ্যানাকোন্ডা’ (১৯৯৭), ‘আউট অব সাইট’ (১৯৯৮), ‘দ্য সেল’ (২০০০) চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত প্রথম অ্যালবাম ‘অন দ্য সিক্স’-এর মাধ্যমে সংগীতজগতে সফল পথচলা শুরু করেন। রোমান্টিক কমেডি চলচ্চিত্র ‘মেড ইন ম্যানহাটান’ (২০০২), ‘শ্যাল উই ড্যান্স?’ (২০০৪) এবং ‘মনস্টার-ইন-ল’ (২০০৫) হলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রীদের কাতারে এনেছে তাকে। তার সমালোচক প্রশংসিত চলচ্চিত্রের মধ্যে আরও আছে ‘হাসলার্স’ (২০১৯) এবং ‘কিস অব দ্য স্পাইডার ওম্যান’ (২০২৫)।





