আগামীর চোখ
আগে বিল, পরে কাজ!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, খুলনা
আমরা আপনার আওতাধীন পাইকগাছা-ডুমুরিয়া উপজেলার সেই হতভাগ্য শিবসা, নড়া, ভদ্রা ও কদমতলা নদীর সেতু। ২০২৩ সালে যখন ধুমধাম করে আমাদের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল, তখন ভেবেছিলাম সর্বশেষ হিসেবে ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বুক ফুলিয়ে নদীর এপার-ওপার জুড়ে দাঁড়িয়ে যাব। কিন্তু মেয়াদ শেষ হতে যখন আর মাত্র দুটো মাস বাকি, এখন আমি নদীর বুকে অর্ধেক হাত-পা নিয়ে এক অদ্ভুত অস্তিত্বসংকটে ভুগছি।
জনাব, গণিত আমি খুব ভালো বুঝি না, তবে ইদানীং ঠিকাদার সাহেব আর হিসাবরক্ষকদের কাণ্ডকারখানা দেখে আমার কংক্রিটের মগজেও কিছু নতুন পাটিগণিত ঢুকেছে। আমার শরীরটার মাত্র ৭০ শতাংশ দৃশ্যমান হয়েছে অথচ ঠিকাদার সাহেবের পকেটে নাকি আমার বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ টাকা ঢুকে গেছে! অর্থাৎ, দুনিয়ার নিয়ম উল্টে দিয়ে কাজের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি বিল তিনি পকেটে পুরে ফেলেছেন।
আমার এই জরাজীর্ণ দশা দেখে এলাকার মানুষ এখন আমাকে নিয়ে নানারকম রসাত্মক আলোচনা করছেন। আমার সেই দুঃখের কথাগুলো তুলে ধরছি।
বুলেট ট্রেনের চেয়েও নাকি ঠিকাদারের বিল তোলার গতি বেশি! আমার ঢালাই যত দ্রুত শুকায়, তার চেয়ে দ্রুত নাকি টাকা ছাড়ের ফাইল সই হয়ে যায়।
সচরাচর কাজ দেখে বিল দেওয়া হয় বলে জানতাম। কিন্তু এখন দেখছি ‘আগে বিল, পরে কাজ’
৫ শতাংশ বাড়তি টাকা অগ্রিম হজম করে ঠিকাদার সাহেব এখন যে ঢিলেঢালা ভাব ধরেছেন, তাতে বাকি ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করতে তাকে হয়তো কিয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে! ততদিনে কি আমরা এই ১২০ কোটি টাকার অর্ধেক শরীর নিয়েই প্রতিবন্ধীর মতো দাঁড়িয়ে থাকব? ‘আমরা’ বলছি এ কারণে যে, আমার মতো আরও তিন ভাই-বেরাদার আছে এই পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায়। তাদের অবস্থাও তথৈবচ।
আপনাদের দেওয়া প্রকল্পের নাম ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’। প্রকল্পের আওতায় ৩৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই চারটি সেতু নির্মাণ করছেন আপনারা।
সচরাচর কাজ দেখে বিল দেওয়া হয় বলে জানতাম। কিন্তু এখন দেখছি ‘আগে বিল, পরে কাজ’! এই অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক অ্যাকাউন্টিং পদ্ধতির জন্য আপনাদের কোনো বিশেষ পুরস্কার দেওয়া উচিত কি না, তা ভেবে দেখতে সরকার বাহাদুরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
অনুগ্রহ করে উনাকে একটু তাড়া দিন, যেন বাকি দুই মাসে অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে আমার ও অামাদের অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ শরীরটাও উনি দাঁড় করিয়ে দেন। নইলে এই হাফ বডি নিয়ে নদীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা আমার জন্য লজ্জার বিষয়!
ইতি
আপনার আধা-নির্মিত সেতু চতুষ্টয়




