নিখোঁজ সন্তানদের অপেক্ষায় স্বজনদের কান্না, উদ্ধারে নতুন ইউনিট গঠনের দাবি

সংগৃহীত ছবি
নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারবর্গ। আজ রবিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘মুন অ্যালার্ট’ (মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন)-এর আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত প্রায় ৪০টি পরিবার দিনের পর দিন সন্তানদের না পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা, উৎকণ্ঠা ও অশ্রুসজল আকুতি তুলে ধরেন। সাধারণ পরিবারের সন্তান নিখোঁজ হলে পুলিশের চরম উদাসীনতার অভিযোগ তুলে স্বজনরা নিখোঁজ শিশুদের অনুসন্ধানে পৃথক একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের জোর দাবি জানান।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান মুন অ্যালার্টের প্রতিষ্ঠাতা সাদাত রহমান জানান, থানা থেকে জিডির কপি সংগ্রহ করে তা তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রচারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত তারা প্রায় ৯০ জন নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কান্না বিজড়িত নানা করুণ অভিজ্ঞতার কথা জানান স্বজনরা। ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পল্লবীর হাজীমার্কেটের বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় তিন বছরের শিশু রূপা আক্তার। তার মা স্বপ্না আক্তার মঞ্চে দাঁড়িয়ে কান্নাভেজে কণ্ঠে নিজের একমাত্র মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান। গত ২৮ মার্চ দক্ষিণখান থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের শিশু আরাফাত হোসেন রিয়াদ। তার বাবা মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, থানায় জিডি করতেই তাদের নানা বেগ পেতে হয় এবং জিডির চার মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনো যোগাযোগ বা তদন্তে আসেনি; বরং উল্টো পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।
একইভাবে ২০০৮ সাল থেকে লালবাগের শহীদনগর থেকে নিখোঁজ আট বছরের তানজিলাকে খুঁজে ফিরছেন তার ভাই মো. শাকিল। সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে শাকিল প্রশ্ন তোলেন, ‘নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে বের করা কি শুধু পরিবারের দায়িত্ব, নাকি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব আছে?’
তিনি বলেন, প্রভাবশালী কারও সন্তান নিখোঁজ হলে দ্রুত উদ্ধার অভিযান হলেও সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে কেউ কথা শোনে না। এ ছাড়া গত ৪ জানুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজমাইনের ছবি হাতে কেঁদে বুক ভাসান তার বড় ভাই আবু আজম।
কয়েকটি পরিবার নিখোঁজের পর পুলিশের সহায়তা ছাড়াই নিজেদের উদ্যোগে সন্তান উদ্ধারের রোমহর্ষক গল্প তুলে ধরেন। গত বছরের ২৩ জুন টঙ্গী থেকে নিখোঁজ হওয়া পাঁচ বছরের শিশু মো. আলিফের বাবা মো. কাশেম জানান, পুলিশের সাহায্য না পেয়ে তিনি ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করে আশুলিয়ায় এক বাসায় আলিফের সন্ধান পান। পরবর্তী সময়ে সেখানে পুলিশ গেলেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় কাশেম নিজ উদ্যোগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গিয়ে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের হাত থেকে ছেলেকে উদ্ধার করেন এবং অপহরণকারীদের আটকে সহায়তা করেন।
এই ঘটনায় মামলা হলেও বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে থানা থেকে কোনো তথ্য পাচ্ছেন না বলে তিনি জানান।





