৫ পরিবারে ৮ খুন, এসবির এসআইকে পিটিয়ে হত্যা
- হিজড়া সর্দারসহ চার জেলায় আরও পাঁচ মরদেহ উদ্ধার
- শিশুদের খেলা নিয়ে বাবাকে, পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে খুন
- সিলেটে সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল মা-মেয়ের লাশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে বরদেশী এলাকায় এসবির এসআই আলতাফ হোসেনকে কয়েকজন মিলে পিটিয়ে হত্যা করে।
কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে পাঁচ পরিবারের আটজন হত্যার শিকার হয়েছে।
এর মধ্যে সাভারে বিছানায় পড়ে ছিল েপাশাক শ্রমিক দম্পতির মরদেহ। মাঝেতে ছিল এক নবজাতক। তবে সদ্যোজাত শিশুটির দেহে ছিল না প্রাণ। ঢাকার সাভারে তালাবদ্ধ ঘরে এক বিছানায় পরিবারটির সব সদস্যের লাশ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তোলপাড়। প্রশ্ন উঠছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে! এর মধ্যেই জানা গেল, একই দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় হিজড়া সম্প্রদায়ের সর্দারের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাটি সৃষ্টি করেছে আলোড়ন।
সাভারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাভারের আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজি হযরত আলীর বাড়ির দোতলার একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। গত শুক্রবার দিনভর এমন গন্ধ ছড়ায়। তবে রাতে এর মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে গেলে বাড়িওয়ালাকে খবর দেন পাশের কক্ষের বাসিন্দারা। বাড়িওয়ালা এসে ঘরের তালা ভেঙে রাত ১টার দিকে বিছানায় তিনটি নিথর দেহ দেখে খবর দেন পুলিশে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের আলমগীর হোসেন (৪০), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩২) ও তাদের নবজাতক। মাসখানেক আগে ওই বাসায় উঠেছিলেন তারা। স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন এই দম্পতি। এর মধ্যে আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। তাদের লাশ পচে যাওয়ায় ছড়াচ্ছিল দুর্গন্ধ।
স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন, এক মাস আগে আলমগীর ও নাজমা হযরত আলীর বাড়িতে ওঠেন। তারা বেশিরভাগ সময় কক্ষের দরজা ও জানালা বন্ধ রাখতেন। কিন্তু শুক্রবার ওই রুম থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ হয়। তবে কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় এর উৎস যাচাই করা যায়নি।
বাড়ির মালিক হযরত আলীর ভাষ্য, মাসখানেক আগে আলমগীর ও নাজমা দম্পতি বাড়ি ভাড়া নেন। তারা নতুন আসায় তেমন কোনো তথ্যও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
নিহত নাজমার বোন শাপনা বেগম বললেন, ‘২০১৬ সালে প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদ হয় নাজমার। ২০২২ সালে বিয়ে হয় আলমগীরের সঙ্গে। মাসখানেক আগে তারা জামগড়ার ওই বাসায় ওঠেন। আমি ও আমার বোন নাজমা একই পোশাক কারখানায় চাকরি করি। বৃহস্পতিবার বিকালে অফিস শেষে আমরা যার যার বাসায় চলে যাই। ওই রাত ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। পরে সকালে বোনের মৃত্যুর খবর পাই।’
‘মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতারৈ েমর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কেউ তাদের হত্যা করে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওই বাসায় ঘটনার সময় কেউ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’—জানালেন আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম।
মৌসুমী হিজড়ার লাশ উদ্ধার: চট্টগ্রাম নগরীতে নিজ বাসা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক ‘গুরুমা’ বা সর্দারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। গতকাল শনিবার সকালে নগরীর খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনিসংলগ্ন হিজড়া কলোনি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
৫২ বছরের মৌসুমী চট্টগ্রামে বসবাসরত হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হিজড়া কমিউনিটির লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা হত্যার বিচার দাবি করে বিক্ষোভও করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলশী থানার এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম জানালেন, মৌসুমী বাসায় একা থাকতেন। সকালে প্রতিবেশীরা ঘুম থেকে উঠে তার বাসার দরজা খোলা দেখতে পান। পরে শয়নকক্ষে বিছানার ওপর তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। গলায় গুরুতর জখমের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
‘মৌসুমীর বাসার পেছনে একটি গরুর খামার আছে। শুক্রবার খামারের একটি গরু বিক্রি করা হয়। গরু বিক্রির টাকা তার কাছে ছিল। ওই টাকা ও তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না। গরু বিক্রির টাকা লুটের জন্যই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে’— উল্লেখ করলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক স্বামী। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রসিকনগর-বাবুপুর এলাকায় এ নির্মম ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন একই এলাকার মনোয়ারা বেগম ও তার স্বামী মফিজুল হক। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ।
রাস্তায় পড়ে ছিল যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ
নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার্স মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় রাস্তার মোড় থেকে শুভ দাস নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সোয়া ১টার দিকে খোকনের বাড়ির সামনে পড়ে ছিল তার মরদেহ।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানালেন, খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন সদর থানার এসআই কাজল মিয়া। নিহত শুভ চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার মতলব বাজার এলাকার হরি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জের নগরীর গলাচিপা এলাকায় বিশার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
‘নিহতের কাছ থেকে ইয়াবা পাওয়া গেছে। তিনি মাদক কারবারি হতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক কারবারের দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড’— যোগ করলেন তিনি।
শিশুদের দ্বন্দ্বে বাবাকে পিটিয়ে হত্যা
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল ইসলামকে (৫৫) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে যাদবপুর মাঝপাড়া গ্রামে ঘটে এই হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্ত লুৎফর রহমান (৪৫) একই গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে মহেশপুর থানার ওসি আজাদ রহমান জানালেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের সুরতহাল করেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে চলছে অভিযান।
সিলেটে সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল মা-মেয়ের লাশ
সিলেটের জকিগঞ্জে নিজ ঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন জকিগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুর রাজ্জাক।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— উপজেলার দাশ শাহগলী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী রতন দাশের স্ত্রী চম্পা রানী দাশ (৩৫) ও তার চার বছরের মেয়ে হৃদি দাশ। চম্পা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি বললেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জেনে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানালেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেছেন, সন্ধ্যার দিকে চম্পা রানী ও তার মেয়েকে ঘরে একই সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে যান।
[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার আগামীর সময় অফিস ও প্রতিনিধিরা]





