দেশের খাদ্য উৎপাদন
ক্ষুদ্র উৎপাদক বেশি চট্টগ্রামে, বৃহৎ সিলেটে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রধান ভূমিকা রাখছে ক্ষুদ্র উৎপাদকরা। কেননা জাতীয়ভাবে মোট ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ খাদ্য উৎপাদকই হলেন ক্ষুদ্র। আর দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্র উৎপাদক হচ্ছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রংপুর ৫৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বৃহৎ উৎপাদক রয়েছে সিলেট বিভাগে ৩৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ক্ষুদ্র খাদ্য উৎপাদকদের আয় ও উৎপাদনশীলতাবিষয়ক জরিপে’ উঠে এসেছে এসব তথ্য। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এতে বলা হয়েছে, বিবিএস এসডিজি সূচক ২, ৩.১ (শ্রম একক প্রতি উৎপাদন) এবং ২, ৩, ২ (ক্ষুদ্র খাদ্য উৎপাদকদের গড় আয়)-এর জন্য জাতীয় ভিত্তিরেখা স্থাপনের জন্য এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। দেশের আটটি বিভাগ এবং পাঁচটি কৃষি খাত অস্থায়ী ফসল, স্থায়ী ফসল, বনায়ন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যচাষ মিলে ১২ হাজার ৮৭৯টি পরিবার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই জরিপটি এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ২.৩-এর জন্য জাতীয়ভাবে প্রতিনিত্বিমূলক প্রাক্কলন তৈরি করেছে।
টেকসই কৃষি পরিসংখ্যান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেছেন, জরিপটি পরিচালনা করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটি থেকে বলতে পারি সিলেটে সাধারণত জনসংখ্যার তুলনায় জমি বেশি। কেননা এখানকার বেশির জমির মালিক থাকে লন্ডন বা বিদেশে। ফলে তাদের জমিক বর্গা নিয়ে চাষ করেন বর্গাচাষিরা। ফলে তারা একেকজন অনেক বেশি জমিক চাষ করে থাকেন। এ কারণে সিলেট বিভাগের বৃহৎ উৎপাদনের আধিক্য বেশি। উল্টোচিত্র চট্টগ্রাম বিভাগে। কেননা এখানে চাষযোগ্য জমি কম। পাহাড় বেশি। ফলে ছোট ছোট জমির মালিকানা বেশি। এজন্য সেখানে ক্ষুদ্র উৎপাদন বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র উৎপাদক পরিবারগুলোর মধ্যে ১০ দশমিক ৭ শতাংশই নারীপ্রধান। এ ছাড়া বৃহৎ খাদ্য উৎপাদক পরিবারগুলোর মধ্যে মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী নেতৃত্বাধীন পরিবার। সব খাত মিলিয়ে দিনপ্রতি (একজন শ্রমিক এক দিনের আয়) জাতীয় গড় উৎপাদনশীলতা হলো ১ হাজার ৮৬৮ টাকা। ক্ষুদ্র পরিসরের খাদ্য উৎপাদকরা দিনপ্রতি ১ হাজার ৪৯৪ টাকা আয় করেন, যেখানে বৃহৎ পরিসরের খাদ্য উৎপাদকরা আয় করেন ২ হাজার ৩০১ টাকা।
খাতভিত্তিক উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে, মৎস্যচাষ সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা অর্জন করেছে, যা দিনপ্রতি ১১ হাজার ৩৮২ টাকা। এরপরেই রয়েছে স্থায়ী ফসল ৬ হাজার ৫৩০ টাকা, বনজ খাতে ৫ হাজার ৩৯০ টাকা, অস্থায়ী ফসলে ২ হাজার ৫৮৫ টাকা এবং পশুপালন ১ হাজার ৪৫৯ টাকা।
উল্লেখ্য, স্থায়ী ফসল এবং বনজ খাতে ক্ষুদ্র পরিসরের খাদ্য উৎপাদকরা তাদের বৃহৎ পরিসরের প্রতিপক্ষদের ছাড়িয়ে গেছেন। তারা দিনপ্রতি যথাক্রমে ৯ হাজার ১৮২ টাকা বনাম ৪ হাজার ৬০৩ টাকা এবং ৬ হাজার ৫১৮ টাকা বনাম ৪ হাজার ৬৫৬ টাকা আয় করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভাগীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্রশিল্পের উৎপাদনশীলতায় সর্বোচ্চ হার রাজশাহী (শ্রমিক-দিনপ্রতি ২ হাজার ৯৩ টাকা এবং সর্বনিম্ন হার ময়মনসিংহ (শ্রমিক-দিনপ্রতি ১ হাজার ১৩৫ টাকা)।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সব ধরনের উৎপাদকের জাতীয় গড় বার্ষিক আয় ৭৮ হাজার ২৮৬ টাকা। ক্ষুদ্র পরিসরের খাদ্য উৎপাদকদের জন্য বার্ষিক আয় আনুমানিক ৩৩ হাজার ৬৩৯ টাকা, যেখানে বৃহৎ পরিসরের উৎপাদকদের জন্য এই আয় ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৫৬ টাকা।





