দালাল বা এজেন্সির মিষ্টি কথায় ভুলবেন না

দাম্মামের কর্নেশ সমুদ্রসৈকত
এক বছর ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে আছি। ২০২৫ সালে এসেছি পেট্রোলিয়াম-সংক্রান্ত কাজে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি এ ধরনের কাজে লোক নিয়োগ কম হয়। আমিও এসে কাঙ্ক্ষিত কাজটি পাইনি। বর্তমানে এক কাজিনের মাধ্যমে একটি অফিসে কাজ করছি। এখানে শ্রম ও উচ্চ আদালতের কাজ, আকামা, দোকান-অফিসের লাইসেন্স, পৌরসভার ডকুমেন্টসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। আমার কাজ বিভিন্ন দেশের গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
এখানে আসার প্রথম দিনের কথা এখনো মনে আছে। রাতে দাম্মাম বিমানবন্দরে নামার পর মনে হয়েছিল, যেন অন্য কোনো জগতে চলে এসেছি। বিমানবন্দর, প্রশস্ত রাস্তা, জমকালো বাতি, মরুভূমির মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা— সবকিছুই ছিল নতুন। সময়ের সঙ্গে সেই অচেনা শহরই এখন অনেকটা আপন হয়ে গেছে।
কাজের কারণে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। তাদের অভিযোগ, কফিল বা কোম্পানি বেতন দেয় না, অকারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে দেশে পাঠিয়ে দেয়। কারও পাঁচ-দশ বছরের পাওনাও থাকে। আমার মনে হয়, প্রবাসীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া দরকার।
দাম্মাম আরব উপসাগরের তীরে সুন্দর ও গোছানো শহর। কর্নেশ ও কুবারের সি-বিচ আমার ভালো লাগে। বাসা থেকে কর্নেশ বিচে হেঁটে যেতে ১৫-২০ মিনিট লাগে। সুযোগ পেলেই সেখানে যাই।
দাম্মামে বাংলাদেশির পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, ইয়েমেন, সুদান, উগান্ডা, ফিলিপাইন, চীন, কোরিয়া ও ফিলিস্তিনের মানুষের সঙ্গেও কথা হয়েছে। কত ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষ এখানে!
দাম্মামে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেকেই ভোর ৪টায় বের হয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়ান। আরবরা এসে দরদাম ঠিক করে তাদের কাজে নিয়ে যান। প্রচণ্ড গরমে তাদের কাজ করতে হয়। শুক্রবার তাদের অনেকের ছুটি। জুমার পর বিকাল বা সন্ধ্যায় মানুষ বিচে যায়, চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়। পরিবার থেকে দূরে আছি। আপন মানুষগুলোর ছবি সবসময় চোখে ভাসে। বাংলাদেশের বৃষ্টির দিনগুলো খুব মিস করি, বিশেষ করে বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলার স্মৃতি।
সৌদি আরবে এসে আরবি ভাষা শেখার সুযোগ হয়েছে। প্রবাস শুধু উপার্জনের জায়গা নয়; শেখারও জায়গা।
নতুন যারা সৌদি আরবে আসতে চান, তাদের জন্য পরামর্শ— দালাল বা এজেন্সির মিষ্টি কথায় ভুলবেন না। ভিসা ও কাজ ভালোভাবে যাচাই করে আসুন। ‘ফ্রি ভিসা’ নিয়ে, জমি বিক্রি করে, ব্যাংক-এনজিও বা প্রবাসীকল্যাণের ঋণ নিয়ে অনিশ্চিতভাবে বিদেশে আসা ঝুঁকিপূর্ণ। সম্ভব হলে অন্তত ড্রাইভিং শিখে এবং আরবি ভাষার ওপর মৌলিক জ্ঞান নিয়ে আসুন।






