রংপুরে চার খুন : সাক্ষী শান্তর জবানবন্দিতে এলো নতুন তথ্য

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরে আলোচিত চার খুনের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর মামলার অন্যতম আসামি সিদ্ধার্থ দাস চারজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন-এমন দাবি করে মাদক কারবারি শান্ত দাস নামে এক যুবক আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ তার কাছে ইয়াবা কিনতে এসেছিলেন। তারা মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে চারটি ইয়াবা কেনেন। এই ইয়াবা সেবনের জেরেই পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গ্রেপ্তার দুই আসামি হত্যাকাণ্ডের আগে তার কাছ থেকে ইয়াবা কিনেছিলেন। সিদ্ধার্থের শরীরে আঁচড়ের দাগ দেখে প্রশ্ন করার পরই তার কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা জানতে পারেন বলে জানিয়েছেন শান্ত।
আজ রবিবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের আদালতে শান্ত দাসের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলী।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস শান্ত দাসের কাছ থেকে তিনটি ইয়াবা কেনেন। সে সময় সিদ্ধার্থের শরীরে আঁচড়ের দাগ দেখতে পান শান্ত। বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় এর কারণ জানতে সিদ্ধার্থকে প্রশ্ন করেন তিনি।
তখন সিদ্ধার্থ দাস শান্তকে বলেন, আমি গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজনকে হত্যা করেছি। সিদ্ধার্থের মুখে এমন কথা শুনে শান্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং পরে স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে শান্ত দাস আদালতে এসে ১৬৪ ধারায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। শান্ত ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানেন বলে উঠে এসেছে। এ কারণে তার বক্তব্য আদালতে আইনগতভাবে রেকর্ড করা হয়।
আদালতে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিজের জানা তথ্য তুলে ধরেছেন। তার জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্য, আসামিদের দেওয়া বক্তব্য, সাক্ষীদের বক্তব্য ও এখন পর্যন্ত পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী। এ নিয়ে চার খুনের মামলায় এ পর্যন্ত তিনজন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন সীমান্ত দাস, বিদ্যুৎ এবং শান্ত দাস।
তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী বলেন, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্যকে চূড়ান্তভাবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না। তবে তার দেওয়া তথ্য কতটা সত্য এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর কী ধরনের যোগসূত্র রয়েছে, তা অন্যান্য সাক্ষ্য, আলামত ও আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে যাচাইয়ের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।






