জামানতবিহীন ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আপৎকালীন ‘ই-ঋণ’ চালু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল ডিভাইসের দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সুদমুক্ত জামানতবিহীন আপৎকালীন ডিজিটাল ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ (জরুরি ডিজিটাল ঋণ) সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে চালুকৃত এই সুবিধার আওতায় সুদের ঝামেলা ছাড়া কেবল নির্দিষ্ট ফি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে।
আজ রবিবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই ঋণ সুবিধা নগদ টাকায় রূপান্তর, ওয়ালেটে ‘এড মানি’ কিংবা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা যাবে না। এটি কেবল ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ফি, টোল, বিমা প্রিমিয়াম, ডিপিএসের কিস্তিসহ অনুমোদিত নির্দিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।
নতুন এই ব্যবস্থার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এটি একেবারেই নতুন একটি ধারণা। বাংলাদেশে এই প্রথম চালু হলো। এটি মূলত একটি আপৎকালীন ফান্ড। যদি মানুষ এটিকে সাদরে গ্রহণ করে এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়, তবে ভবিষ্যতে এর আওতা ও পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন গ্রাহক জরুরি প্রয়োজনে ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ বা সরকারি ফি পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ সুবিধা পাবেন।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ন্যূনতম ছয় মাস পরীক্ষামূলক পরিচালনা করতে হবে। পাইলট প্রকল্পের ফল মূল্যায়ন, গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রোডাক্ট প্রোগ্রাম গাইডলাইনস (পিপিজি) অনুমোদন করবে। বাণিজ্যিকভাবে চালুর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও পিপিজি ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে জমা দিতে হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গৃহীত ঋণের মূল অর্থ এবং নির্ধারিত মাশুল বা ফি ঋণের তারিখ থেকে হিসাব করে যথাক্রমে ৮ম, ১৬তম অথবা ৩১তম দিনে সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিংবা তার আগে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত কোনো ফি, সুদ বা চার্জ কাটবে না। তবে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত মেয়াদের জন্য দৈনিক ভিত্তিতে জরিমানা আদায় করা যাবে, যা ৩০ দিন মেয়াদিঋণের দৈনিক ফি’র বেশি হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য মাশুল যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৬ টাকা; ২৫১ থেকে ৫০০ টাকার জন্য ৫, ৮ ও ১৫ টাকা; ৫০১ থেকে এক হাজার টাকার জন্য ৭, ১২ ও ২০ টাকা; ১ হাজার ১ থেকে দুই হাজার টাকার জন্য ১০, ২০ ও ৩০ টাকা; ২ হাজার ১ থেকে তিন হাজার টাকার জন্য ১৫, ৩০ ও ৫০ টাকা; ৩ হাজার ১ থেকে পাঁচ হাজার টাকার জন্য ২০, ৪০ ও ৭০ টাকা; ৫ হাজার ১ থেকে সাত হাজার টাকার জন্য ২৫, ৫০ ও ৯০ টাকা এবং ৭ হাজার ১ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা।





