হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের সব কার্যক্রম স্থগিত
- প্রতিষ্ঠানটির এমডির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসই

সংগৃহীত ছবি
নিবন্ধন সনদ নবায়ন না করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজ লিমিটেডের (ট্রেক নম্বর-৪১) স্টক ব্রোকার ও ডিলার হিসেবে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। গত আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওপর এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছে। ডিএসইর সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বাভাবিক লেনদেন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ ও শেয়ার হিসাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত গ্রাহক হিসেবে (সিসিএ) অতীতে ঘাটতি ও অননুমোদিত নগদ অর্থ উত্তোলনের ঘটনা থাকায় বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়টি জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে ডিএসই।
চিঠিতে বলা হয়েছে, হাজী আহমাদ ব্রাদার্স সিকিউরিটিজের স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ৬ আগস্ট পর্যন্ত ছিল। কিন্তু ওই সময়ের পর প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন সনদ নবায়ন করেনি। ফলে ৭ আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার হিসাবের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিধিমালার বিধান অনুসরণ করেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
ডিএসই আরও জানিয়েছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর বিধি ৩ অনুযায়ী কার্যকর নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো স্টক ডিলার, ব্রোকার বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয় কিংবা এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। বিধি ২১ ও ২২-এর সাপেক্ষে এই নিয়ম কার্যকর রয়েছে। তাই সনদ নবায়ন না হওয়ায় হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের আপাতত থাকছে না নতুন করে লেনদেন পরিচালনার সুযোগ।
অন্যদিকে গ্রাহক তহবিল ও বিও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। বিএসইসির পরিদর্শন নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ জুন বিনিয়োগকারীদের পাওনা ছিল ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৫ হাজার ৭০১ টাকা। এর বিপরীতে সিসিএতে জমা ছিল ৯ কোটি ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৮২ টাকা। ২০২৩-২৪ সালেও গ্রাহক তহবিলে এমন ঘাটতি পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট থেকে চেকের মাধ্যমে নগদ অর্থ উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে বিএসইসি। বিও হিসাব পরিদর্শনে একই ই-মেইল, মোবাইল নাম্বার ও ব্যাংক হিসাব একাধিক হিসাবে ব্যবহারের প্রমাণও মিলেছে। এমন ৪০টি ই-মেইল শনাক্ত হয়েছে, যার প্রতিটির বিপরীতে ৩ থেকে ১৬টি পর্যন্ত বিও হিসাব ছিল। পাশাপাশি ২৪টি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে একাধিক বিও হিসাব পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে বিএসইসি জরিমানা করেছে। আদেশ অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে পে-অর্ডারে পরিশোধ করতে হবে জরিমানার অর্থ।





