চার নেতার ছায়ায় সাজ্জাদ বাহিনী!
- পুলিশের প্রতিবেদনে বিএনপি নেতাদের আধিপত্য বজায়ে এই বাহিনীকে ব্যবহারের তথ্য
- সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা হত্যাসহ ২৬ ঘটনায় সাজ্জাদ বাহিনীর সম্পৃক্ততা
- ভারতে থাকা সাজ্জাদ ২০১১ সালে নিজের নাম পাল্টে রাখেন মোহাম্মদ আবদুল্লাহ

বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খান। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী খান। যিনি ইসলামী ছাত্র শিবিরের একসময়ের ‘দুর্ধর্ষ’ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। তাকে ডাকা হয় বড় সাজ্জাদ নামে। সম্প্রতি তার দুই অনুসারী পুলিশের কাছে দিয়েছে বেশ কিছু তথ্য। যেখানে বড় সাজ্জাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উঠে এসেছে তিন সংসদ সদস্য ও এক প্রভাবশালী নেতার নাম। এই নেতাদের সঙ্গে সাজ্জাদ ও তার শীর্ষ অনুসারীদের ‘পর্দার আড়ালে’ যোগাযোগের তথ্য এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমও নিশ্চিত করলেন, বড় সাজ্জাদের বাহিনীর রাজনৈতিক কোনো ‘ব্যাকআপ’ আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘ডেভিড ইমন ও মোবারককে তাদের পলিটিক্যাল শেল্টারের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। লোকাল কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা নেতার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে কি না। তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। তবে পলাতক রায়হানের সঙ্গে একজন সংসদ সদস্যের একটি ছবি ফেসবুকে আছে। সেটিও আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি। পরিচয় দেয় আর কী! এর বেশি কিছু না। মোবারক তো একসময় আওয়ামী লীগ করত। ফটিকছড়ির তৈয়ব বাহিনীর হয়ে কাজ করত।’
সাজ্জাদ বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারের ভারী অস্ত্রশস্ত্রগুলো উত্তর চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এবং নগরীর বিভিন্ন গোপন আস্তানায় মজুদ রাখা হয় বলেও জানালেন তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে গত দুই বছরে চট্টগ্রামের এসব উপজেলা ও নগরী মিলিয়ে অন্তত ৩০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে বাকলিয়ার জোড়া খুন এবং বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহকে গুলি করে আহত ও তার সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলাকে হত্যাসহ ২৬টি ঘটনায় সাজ্জাদ বাহিনীর সম্পৃক্ততা পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় প্রতিটি ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে বড় সাজ্জাদ এবং জড়িত হিসেবে রায়হান, ডেভিড ইমন, মোবারক, বোরহান, দিদার, হেলালসহ কয়েকজনের নাম এসেছে।
নগর-পুলিশের এক কর্মকর্তা বলছিলেন, সেসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতিতে চাপের মুখে পড়েন তৎকালীন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে সাজ্জাদ বাহিনীর কর্মকাণ্ড ও তাদের নেপথ্যের রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকদের নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেন। বালুমহালের দখল-বেদখল ও এলাকাভিত্তিক বিএনপি নেতাদের আধিপত্য বজায় রাখতে সাজ্জাদ বাহিনীর সন্ত্রাসীদের ব্যবহারের তথ্য এসেছিল সেই প্রতিবেদনে। তবে সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে হওয়ায় বিষয়টি তখন চাপা পড়ে যায়।






