মার খেয়েই যাচ্ছে পুলিশ
- ৭ মাসে হামলার শিকার ৩৬১; ১৯ মাসে ৯৬২ জন
- আসামি ছিনতাই, থানায় ঢুকে হামলা; বাড়ছে ঝুঁকি
- ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা
- আজ আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা দিবস

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অপরাধী ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্য। হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে পুলিশের কাছ থেকে। কোথাও আবার থানায় ঢুকে পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করা হচ্ছে। সড়কে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রকাশ্যে মারধরের শিকার হচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশ। সর্বশেষ সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
একের পর এক এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে— আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশই কি এখন অপরাধীদের সহজ টার্গেটে পরিণত হয়েছে? অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে পুলিশের মনোবল না ফেরার জন্য ঊর্ধ্বতনদের উদাসীনতাকে দায়ী করে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি রুমে বসে শুধু নির্দেশনা দিয়ে সময় পার করার কারণে মাঠপর্যায়ের পুলিশের মনোবল ফিরছে না।
পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই— এ সাত মাসে পৃথক হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৬১ পুলিশ সদস্য। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে আহত হয়েছেন ৫১ জনের বেশি। এর আগে ২০২৫ সালে দায়িত্ব পালনকালে হামলায় আহত হন ৬০১ জন। সব মিলিয়ে গত ১৯ মাসে পুলিশের ওপর হামলায় আহত হয়েছেন ৯৬২ সদস্য।
শুধু হামলা নয়, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে একের পর এক। গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ১০ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলা শুধু বাহিনীর মনোবলকেই আঘাত করছে না, এটি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। পুলিশ দুর্বল হয়ে পড়লে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তাই দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সদস্যদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও মানসিক সহায়তা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশের মনোবল ফেরাতে শুধু নির্দেশনা নয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক আশরাফুল হুদা আগামীর সময়কে বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তার ভাষায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। এতে সদস্যরা সাহস পাবেন এবং নিজেদের অভিভাবকহীন মনে করবেন না।
সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদও পুলিশকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পিআরবি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজেদের দপ্তরে বসে না থেকে মাঠে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। থানার ‘ওপেন হাউজ ডে’-এর মতো অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
নূর মোহাম্মদ বলেছেন, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখার সাহস পুলিশকে দিতে হবে। পুলিশ ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে সাধারণ মানুষও নিজেদের নিরাপদ ভাববে না। এর নেতিবাচক প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে পড়তে বাধ্য।
পিটিয়ে হত্যা করা হলো এসবি সদস্যকে



