নিজামের দুর্লভ গয়নার নতুন ঠিকানা হতে পারে দিল্লির জাদুঘর
- থাকছে ১৮৫ ক্যারেটের ‘জ্যাকব ডায়মন্ড’, সাত-সারি মুক্তোর হার

হায়দরাবাদের নিজামদের রাজকীয় গয়নার এক দুর্লভ সংগ্রহে রয়েছে হার, ব্রেসলেট, বাজুবন্ধ এবং আংটি।
কয়েক দশক ধরে ভল্টের অন্ধকারেই বন্দি হয়ে আছে হায়দরাবাদের নিজামদের রাজকীয় গয়নার এক দুর্লভ সংগ্রহ। এবার সেই গয়না সাধারণ দর্শকের সামনে আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দিল্লির রাইসিনা হিলে তৈরি হওয়া ‘যুগ যুগীন ভারত’ জাদুঘরের একটি গ্যালারিতে এই ঐতিহাসিক সংগ্রহ প্রদর্শনের পরিকল্পনা করছে বলে সূত্রের খবর।
১৮শ শতক থেকে ২০শ শতকের গোড়ার দিকের এই সংগ্রহে রয়েছে হার, ব্রেসলেট, বাজুবন্ধ এবং আংটি। সবচেয়ে আলোচিত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে ১৮৫ ক্যারেটের ‘জ্যাকব ডায়মন্ড’—প্রচলিত বর্ণনায় যা কোহিনূরের থেকেও বড়। রয়েছে সাত-সারি মুক্তোর একটি হারও। পুরো সংগ্রহটির মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা বলে সূত্রের দাবি।
এতদিন সাধারণ মানুষ এই গয়নাগুলি দেখার সুযোগ পাননি। কারণ শুধু মূল্য নয়, প্রতিটি অলঙ্কারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্বও। ফলে আরবিআইয়ের ভল্ট থেকে সেগুলি সরিয়ে জাদুঘরে নিয়ে আসার কাজও সহজ নয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংগ্রহটির নথিভুক্তিকরণ এবং স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। জাদুঘরের প্রথম গ্যালারিটি আগামী বছরের জুন নাগাদ দর্শকদের জন্য খুলতে পারে। সেখানে ভারতীয় অলঙ্কার ও সাজসজ্জার ঐতিহ্য তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই গয়নার পিছনে রয়েছে দীর্ঘ আইনি ইতিহাস। ১৯৭০-এর দশক থেকে চলা বিরোধের পর ১৯৯৫ সালে সরকার প্রায় ২১৮ কোটি টাকা দিয়ে সংগ্রহটি অধিগ্রহণ করে।
এর আগে গয়নাগুলি ছিল এইচইএইচ নিজাম জুয়েলারি ট্রাস্ট এবং এইচইএইচ নিজাম সাপ্লিমেন্টাল জুয়েলারি ট্রাস্টের হাতে। শেষ নিজাম মীর ওসমান আলি খান ১৯৫১-৫২ সালে পরিবারের ঐতিহ্যবাহী সম্পদ সুরক্ষিত রাখার জন্য এই ট্রাস্টগুলি গড়ে তুলেছিলেন।
সরকারের হাতে যাওয়ার পর গয়নাগুলি প্রথমে মুম্বইয়ের একটি ব্যাঙ্কে রাখা হয়। পরে সেগুলি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হেফাজতে যায় এবং ২০০১ সালে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়।
তারপর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই রয়েছে এই বিপুল সংগ্রহ। এবার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভল্টের নিরাপত্তা পেরিয়ে তা পৌঁছবে জাদুঘরের কাচের প্রদর্শনী কক্ষে—যেখানে নিজাম আমলের রাজকীয় জীবন, ভারতীয় রত্নশিল্প এবং এক সময়ের বিপুল ঐশ্বর্যের গল্প দর্শকরা নিজের চোখে দেখার সুযোগ পাবেন। তবে গয়না স্থানান্তর ও প্রদর্শনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা এখনও নির্ধারিত হয়নি।



