ভারতে সিইসির পদত্যাগ চেয়ে দেশজুড়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ
- ২০টির বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিক্ষোভ
- একাধিক জায়গায় আটক কংগ্রেস নেতা ও কর্মী
- দুই নির্বাচন কমিশনারের ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তির খবর ঘিরেই তীব্র বিতর্ক
- রাহুলের দাবি, ‘ভোট চুরি’ হলে আইন ও সংবিধানের ভিত্তিও প্রশ্নের মুখে

সংগৃহীত ছবি
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের স্বাধীন তদন্তের দাবিতে শুক্রবার ও শনিবার দেশজুড়ে পথে নামল কংগ্রেস। দিল্লি থেকে পটনা, গুয়াহাটি থেকে কলকাতা, মণিপুর থেকে জম্মু-কাশ্মীর - ২০টির বেশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিক্ষোভের খবর। বহু জায়গায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকায়। পটনা ও চণ্ডীগড়ে জলকামান, মণিপুরে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। একাধিক রাজ্যে আটক করা হয় কংগ্রেস নেতা ও কর্মীদের।
এই বিক্ষোভের কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতবিরোধ। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার লিখিত ভাবে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের আপত্তির মধ্যে ছিল নতুন ভোটারদের জন্য ৬ নম্বর ফর্মে পরিবর্তন, ভোটার তালিকা থেকে নাম যোগ- বিয়োগ এবং ভোটার তালিকার তথ্য ভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার বিষয়।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে দুই কমিশনারের অভিযোগ ছিল, তাঁদের জানানো বা সম্মতি ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ভোটারদের আবেদনপত্রে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার বিষয়টিকেও সান্ধু ‘অননুমোদিত’ ও ‘অবৈধ’ বলে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ।
বিতর্কের মধ্যে সবচেয়ে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ২৪ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ভোট, আইন, প্রতিষ্ঠান এবং সংবিধানের মধ্যে যে সম্পর্ক, তা দুর্বল হয়ে পড়ছে। রাহুল বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের উচিত ‘সরকারি সাক্ষী’ হয়ে সত্য সামনে আনা। তাঁর ভাষায়, এই ধরনের পরিস্থিতি ভারতের ইতিহাসে আগে দেখা যায়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএসের নাম নিয়েও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, ভোটার তালিকা, ৬ নম্বর ফর্ম এবং সফটওয়্যার নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন কমিশনের ভিতর থেকেই সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, বিরোধীদের দীর্ঘ দিনের প্রশ্নগুলি এতদিন উড়িয়ে দেওয়া হলেও দুই কমিশনারের লিখিত আপত্তি নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং সিদ্ধান্তগুলির আইনি পর্যালোচনার দাবি করেছেন।
শুক্রবারের বিক্ষোভে কলকাতাতেও মিছিল হয়। পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের দিকে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। পুলিশ মিছিল আটকে দিলে জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল পোড়ানো হয় এবং তার গ্রেফতারের দাবি ওঠে। গুয়াহাটিতে অসম কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ সহ আরও অনেক নেতাদের আটক করা হয়। মণিপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পর টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জ্ঞানেশ কুমারের কাজের প্রশংসা করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান অবশ্য বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারেরই উচিত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখা।
এদিকে, কংগ্রেস ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের রাজ্য ও বিধানসভা ভিত্তিক হিসাব, নাম বাদ দেওয়ার কারণ, আপত্তির তথ্য এবং পরে কত নাম ফেরানো হয়েছে সব প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। কোন কর্মকর্তা কখন ভোটার তথ্য বদলেছেন এবং কার অনুমোদন ছিল, তারও হিসাব চেয়েছে দল। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের কার্যকরী সমিতির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক হওয়ার কথা। এছাড়া ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বৈঠক করতে পারে।



