ইহুদি দখলদারদের সমর্থনে ইসরায়েলের নতুন সেনাবহর

পশ্চিম তীরের গ্রাম কুসরা। সেখানে গত সপ্তাহের শেষ দিনে তিনটি বাড়ি অবরুদ্ধ করে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। বন্ধ করে দেয় বাড়িগুলোর সংযোগকারী রাস্তা। বিচ্ছিন্ন করে দেয় পানি-বিদ্যুৎও। পরিবারের সদস্যদের কাউকে ভেতরে ঢুকতে বা বাইরে বেরোতে দিচ্ছে না। ক্রমবর্ধমান এ নৈরাজ্যের মধ্যে ইহুদি দখলদারদের সমর্থনে ওই অঞ্চলে গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন সেনাবহর নামিয়েছে ইসরায়েল।
কুসরার মেয়র আবেদ আল-আথেম ওয়াদি জানিয়েছেন, গ্রামটির ছয়টি বাড়ি খালি করিয়ে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এর মধ্যে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত অবরুদ্ধ তিনটি বাড়িও রয়েছে। ওই বাড়িগুলোয় বসবাসরত পরিবারগুলোকে একত্র করা হয়েছে একটি বাড়িতে।
রয়টার্সকে গ্রামবাসীরা বলেছেন, এই অভিযান আগামী রবিবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে তাদের জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনারা। প্রকাশ করা একটি বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনা জানিয়েছেন, বাসিন্দাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কুসরায় সেনা মোতায়েন করা হয়। তাদের ‘নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কুসরার বাসিন্দারা যেন নিজ নিজ বাড়িতেই অবস্থান করেন’ বলেও উল্লেখ রয়েছে সেখানে। কুসরা গ্রামে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা দুটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। তারা জানিয়েছে, তাদের কাছে কোনো খাবার বা ওষুধ নেই। বসতি স্থাপনকারীরা তাদের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, বাড়িঘরে পাথর ছুড়ছে ও তাদের উদ্দেশ্য করে অপমানজনক কথাবার্তা বলছে। বাড়িগুলোর একটিতে আটকা পড়েছেন ফিলিস্তিনি কুসাই আবু রিদা। সাহায্য চেয়ে তিনি বললেন, ‘আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি স্বাধীন ও মর্যাদাবান মানুষের কাছে খাদ্য ও ওষুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সহায়তার আবেদন জানাচ্ছি।’
ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বললেন, ‘যারা এই কাজ করছে, সেই ইসরায়েলি সন্ত্রাসীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের অনুরোধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সেখানে গেছে।’ তিনি আরও বললেন, এই পরিবারের বাড়িতে যারা এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের কার্যকলাপ অপরাধমূলক।






