কানাডায় হামলা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ভয় প্রধানমন্ত্রী কার্নির

২০২৬ সালের ১৬ জুন অনুষ্ঠিত জি-৭ বৈঠকের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় সামরিক অভিযান চালাতে পারে, এমন একটি সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেছে কানাডার সরকার। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন এমন একটি পরিস্থিতিকে ‘সম্ভাবনাময় ঝুঁকি’ হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন কার্নি। তবে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
কার্নির ভাষ্য, দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবেই সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও সে হিসেবেই পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সম্প্রতি বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কে টানাপড়েন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়েও চলছে বিরোধ। এ বাণিজ্য বিরোধ আরও গভীর হয় গত মাসে। দুই দেশ বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ শুরু করে।
এর মধ্যেও ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কার্নি। তার ভাষ্য, দুজনের মধ্যে ফোনে কথা বলার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়েও তারা সরাসরি আলোচনা করেন।
কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আবারও শুরু করার সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের আগের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। দুই দেশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ও রিজার্ভ সেনাসদস্যের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি। কানাডায় এই সংখ্যা ২ লাখের কম।
২০২৪ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাবমেরিন ছিল ৬৫টি। কানাডার ছিল চারটি।
তবে কানাডার রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম উপকূলরেখা। দেশটি আর্কটিক অঞ্চলের কাছাকাছিও অবস্থিত। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কার্নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার আশঙ্কাকে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির স্বাভাবিক বা সম্ভাব্য পরিণতি হিসেবে দেখছেন না। বরং সম্ভাব্য চরম ঝুঁকি হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রস্তুতি রাখার কথা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র : বিবিসি







