কিউবার ‘পতন’ থেকে ইরান ‘ধ্বংসের’ হুমকি, জাতিসংঘে আর কী বললেন ট্রাম্প

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন ট্রাম্প—রয়টার্স
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করেছেন, সংঘাতের অবসানে কোনো চুক্তি না হলে তিনি ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে পারেন। ভাষণে কিউবাকে ‘ব্যর্থ’ উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, দ্রুতই সেখানকার শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসন শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য দেশগুলোকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনের পরপরই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। কারণ তাদের জন্য তা না করার কোনো মানে হয় না। তারা দেখার অপেক্ষায় আছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমি কেমন করি।
ট্রাম্প বললেন, ‘আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এমন কোনো চুক্তি কি ইরানের সঙ্গে হবে, যাতে তারা পুনর্গঠন করতে পারে এবং আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলতে পারে? নাকি আমি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করে দেব এবং তা দ্রুতই করব, যাতে আবার মানুষ ও দেশগুলোকে হত্যা ও ধ্বংস করার কোনো সুযোগ তারা না পায়?’
ট্রাম্প আরও বললেন, ‘আমি কি তাদের কোনো টিকে থাকার সুযোগ ও ভবিষ্যৎ মহত্ত্ব কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোনো আশা না রেখে নরকে ঠেলে দেব? তবে আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনের পরপরই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচনের পরপরই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব। কারণ তাদের জন্য তা না করার কোনো মানে হয় না। তারা দেখার অপেক্ষায় আছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমি কেমন করি।’
কমিউনিজম কখনোই আমেরিকায় আসবে না। তবে স্বাধীনতা কিউবায় আসবে।
একই ভাষণে ট্রাম্প কিউবাকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপ দেশটিতে স্বাধীনতা আসছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বললেন, ‘আমার প্রশাসন কিউবার পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনারও চেষ্টা করছে। সেখানে কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে—তারা এর আগে কখনো এতটা চাপের মুখে পড়েনি। এটি পুরোপুরি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন এটি বেশি ব্যর্থ হচ্ছে এবং এর পতন ঘটবে।’
ট্রাম্প আরও বললেন, ‘কমিউনিজম কখনোই আমেরিকায় আসবে না। তবে স্বাধীনতা কিউবায় আসবে।’
আমি এমন কোনো কিছুর প্রবৃদ্ধি আটকে দেব না, যা শিল্প বিপ্লবের চেয়েও বড় হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘‘এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব নথিতে এবং আশা করি, বিশ্বের নথিপত্রেও কৃত্রিম শব্দটির পরিবর্তে আরও সঠিক ‘সুপার’ শব্দটি ব্যবহার করা হবে। তাই এটি হবে সুপার ইন্টেলিজেন্স।’’
তিনি বললেন, ‘আমি এমন কোনো কিছুর প্রবৃদ্ধি আটকে দেব না, যা শিল্প বিপ্লবের চেয়েও বড় হবে।’
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মেক্সিকো ইস্যুতে ট্রাম্প বলেছেন, মাদক কার্টেলগুলোর সহিংসতার কেন্দ্রস্থল মেক্সিকো। তিনি আরও বলেন, দেশটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে হবে।
গত বছর জাতিসংঘে দেওয়া এক আক্রমণাত্মক ভাষণে ট্রাম্প আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। সে সময় জলবায়ু নীতি ও ব্যাপক অভিবাসনসহ বিভিন্ন কারণে অন্য দেশগুলোকে ‘নরকে যেতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।




