বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইসেন্স স্থগিত

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিকে ঘিরে। ব্রিটিশ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়টির বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা স্পনসর করার লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিবিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকেই বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী স্পনসর লাইসেন্স স্থগিত কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অনুমোদিত শিক্ষার্থী স্পনসরদের সরকারি তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই লাইসেন্সের মাধ্যমেই কোনো ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ছাত্রভিসার জন্য স্পনসর করতে পারে। ফলে স্থগিতাদেশ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন করে ভিসানির্ভর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্পনসর করতে পারবে না।
তবে বর্তমানে সেখানে পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তির খবর রয়েছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্পনসরশিপে পড়ছেন, তাঁদের যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতির মেয়াদ বৈধ থাকলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন। দেশীয় শিক্ষার্থী এবং যাঁদের অভিবাসন অনুমতি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পনসরশিপের ওপর নির্ভরশীল নয়, তাঁরাও এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হবেন না।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পড়তে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্য পরিস্থিতি আলাদা। স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় নতুন শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় স্পনসরশিপ দেওয়ার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়টির নেই। ফলে আবেদন বা ভর্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি স্পনসর তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বশেষ অবস্থান যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির “স্পনসর হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে উদ্বেগ” থেকেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত, তার বিস্তারিত সরকারি নোটিশে প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তোলা অনেক বিষয়ই “অতীতের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত”। তাদের দাবি, ২০২৫ সালে নতুন উপাচার্য ও নির্বাহী দল দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসন, নিয়ম মেনে চলা ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। চলতি বছরের ব্রিটিশ ভিসা ও অভিবাসন দপ্তরের নিরীক্ষার আগেই বেশ কিছু সংস্কার কার্যকর হয়েছিল বলেও জানিয়েছে তারা।
এখন বিশ্ববিদ্যালয়টির হাতে জবাব দেওয়ার জন্য ২০ কর্মদিবস সময় রয়েছে। তারা যদি প্রমাণ করতে না পারে যে লাইসেন্স পুনর্বহাল করা উচিত, তবে সেটি পুরোপুরি বাতিল হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী ও অস্থায়ী কর্মীদের স্পনসর করার আলাদা লাইসেন্স এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়নি।



