সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের
তাপপ্রবাহে ব্রিটেনে টিকে যাচ্ছে ‘মারণ জ্বরের’ বাহক টিক
- ৪০ শতাংশ পর্যন্ত প্রাণহানির রোগের বাহক টিক

প্রতীকী ছবি
পাখির ডানায় ভেসে আসে ঋতুর খবর, কখনও কখনও তার শরীরে চেপেই পাড়ি দেয় অদৃশ্য বিপদ। আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে ব্রিটেনে আসা পরিযায়ী পাখির সঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছে হায়ালোমা টিক। এতদিন ব্রিটেনের ঠান্ডা আবহাওয়ায় বেশির ভাগই টিকতে পারত না। কিন্তু ঘন ঘন তাপপ্রবাহ সেই ছবিই বদলে দিতে শুরু করেছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ কীটবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) স্কাই নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হায়ালোমা টিক ক্রিমিয়ান-কঙ্গো রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের প্রধান বাহক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার চিকিৎসা কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ডা. জোলিয়ন মেডলক বলেছেন, তাপপ্রবাহের বছরগুলোতে ব্রিটেনে পৌঁছানো অপরিণত হায়ালোমা টিক এখন খোলস বদলে প্রাপ্তবয়স্ক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে। গত প্রায় ১০ বছরে এমন ঘটনা পাঁচবারেরও কম নথিভুক্ত হলেও উত্তর ইউরোপের বিজ্ঞানীরা এখন আগের চেয়ে কিছুটা বেশি এমন নজির পাচ্ছেন।
তবে তিনি আতঙ্কিত না হওয়ার কথাও বলেছেন। তাঁর ভাষায়, প্রাপ্তবয়স্ক টিক পাওয়া যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বেঁচে থাকবে, কিংবা তা অবধারিতভাবে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করবে। সরকারি মূল্যায়নেও এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে হায়ালোমা টিকের স্থায়ী বংশবিস্তারকারী কোনো জনগোষ্ঠী পাওয়া যায়নি এবং ক্রিমিয়ান-কঙ্গো রক্তক্ষরণজনিত জ্বরও সেখানে স্থানীয়ভাবে উপস্থিত নয়।
হায়ালোমা টিক সাধারণত জীবনচক্রের মধ্যবর্তী পর্যায়ে পরিযায়ী পাখির শরীরে আটকে আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে ব্রিটেনে পৌঁছায়। গত ৫০ বছর ধরেই পাখির শরীরে এসব অপরিণত টিকের উপস্থিতি নথিবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু অতীতে ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়া তাদের পরবর্তী ধাপে বেড়ে ওঠায় বাধা দিত।
চিন্তার জায়গা এখানেই। মেডলক বলেছেন, মৃদু শীত ও বেশি গরমের কারণে ব্রিটেনে টিকের সক্রিয় থাকার মৌসুমও বদলে যেতে পারে। সাধারণভাবে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে টিকের সক্রিয়তার সীমা ধরা হলেও তিনি ৩ ডিগ্রিতেও টিককে সক্রিয় দেখেছেন। ফলে উষ্ণ শীতে সেগুলো আরও দীর্ঘ সময় সচল থাকতে পারে।
ক্রিমিয়ান-কঙ্গো জ্বরে হঠাৎ জ্বর, মাথা ও পেশিতে ব্যথা, মাথা ঘোরা, বমিভাব দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় দ্রুত কিডনির অবনতি, যকৃত বা ফুসফুস বিকল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। টিকের কামড় ছাড়াও সংক্রমিত প্রাণীর রক্ত বা টিস্যুর সংস্পর্শে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে যেতে পারে।
ডা. মেডলকের সতর্কবার্তার মূল কথা তাই আতঙ্ক নয়, জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যাওয়া রোগের মানচিত্র। যে পরজীবী একসময় ব্রিটিশ আবহাওয়ায় টিকতে পারত না, ক্রমশ উষ্ণ হয়ে ওঠা গ্রীষ্ম তাকে এখন আরও কিছুটা সময় দিচ্ছে।



