ইতালির বিরুদ্ধে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করল স্পেন

ছবি: রয়টার্স
ইতালি থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপর সাময়িক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ চালু করেছে স্পেন। গত সপ্তাহে স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় হাজার হাজার মরক্কান অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীরা অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে।
এর পরপরই ইতালি একই ধরনের নীতি প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানায়। এর জবাবে শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাসপোর্ট, জাতীয়তা ও ভিসা পরীক্ষা শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। তারা ইতালিতে ‘অবিচ্ছিন্ন অবৈধ অভিবাসন চাপ’-এর কথাও উল্লেখ করেছে।
গত ৩০ জুলাই ইতালি নিজেদের সাময়িক ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছিল। তারা বলেছিল, সেউতায় প্রায় ৭২ হাজার মানুষের ব্যাপক অভিবাসন ঢলের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্প্যানিশ সরকার শুক্রবার আগে রোমের বিরুদ্ধে ‘সমানুপাতিক ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইতালিকে দুই দিনের সময়সীমা দিয়ে বলেছে, সংশোধন করুন, পরীক্ষা বন্ধ করুন এবং স্প্যানিশদের অন্য ইউরোপীয় নাগরিকদের মতো আচরণ করুন।
জবাবে রোম জানিয়েছে তারা স্পেনের আল্টিমেটাম বা চাপের কাছে মাথা নত করবে না এবং অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক লড়াই এমন সময়ে চলছে যখন স্পেন গত সপ্তাহে মরক্কো থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশ করা মানুষের ঢলের ধাক্কা সামলাচ্ছে। উত্তর আফ্রিকার এই স্প্যানিশ ছিটমহলে ব্যাপক আগমন অন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতাদের, বিশেষ করে কঠোর অভিবাসন-বিরোধী মনোভাবের ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ক্ষুব্ধ করেছে।
ইতালি ১ আগস্ট থেকে স্পেনের সঙ্গে সীমান্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে পুনরায় চালুর কথা বলে আসছে। মেলোনি একে ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং আমাদের দেশের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধের অসাধারণ ব্যবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সেউতা থেকে ইতালিতে আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীদের যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ ইতালি ও স্পেনের মধ্যে কোনো স্থল সীমান্ত নেই। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মেলোনির এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
২২টি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্র একটি যৌথ চিঠিতে স্পেনকে অভিযুক্ত করে বলেছে, তারা এমন আকর্ষণকারী কারণ তৈরি করেছে যা ব্লকের সীমান্তকে অস্থিতিশীল করছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরক্কো থেকে সেউতায় আসার পথে অন্তত ১০০ জন অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী মারা গেছেন। সেউতায় আসা বেশিরভাগ মানুষই এরই মধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
শুক্রবার স্পেন আরও জানিয়েছে, তাদের পুলিশ দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল ও ইবিজা দ্বীপ হয়ে দেশে ২ হাজার অভিবাসী আনার সন্দেহে একটি মানবপাচার চক্রকে সফলভাবে ভেঙে দিয়েছে।
অভিভাবকহীন নাবালক
রাজনৈতিক পরিণতির মাঝে স্প্যানিশ নেতারা সেউতায় চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলা করে যাচ্ছেন।
স্প্যানিশ যুবমন্ত্রী সিরা রেগো শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ছিটমহল সেউতায় এখনও অবস্থানরত কয়েক হাজার আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীর মধ্যে অন্তত ১ হাজার ৩৪২ জন শিশু। এদের মধ্যে শত শত শিশু অভিভাবকহীন।
রেগো সেউতার রাস্তায় শিশুদের ঘুমানোর ‘বেদনাদায়ক চিত্রের’ কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, কর্তৃপক্ষ আরও স্থানকে সম্ভাব্য অভ্যর্থনা কেন্দ্র হিসেবে মূল্যায়ন করছে। এরই মধ্যে দুটি স্কুল খোলা হয়েছে।
তবু সেউতা কর্তৃপক্ষ বলেছে, অন্তত ১ হাজার ১০০ শিশুর সহায়তা প্রয়োজন। সেউতার তাত্ত্বিক ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৯০।
রেগো সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা শিশুদের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তর ও স্বাগত জানানো শুরু করতে পারি।’
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে শিশুরা নির্যাতন ও শোষণের মুখে পড়ছে।
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলের অভিবাসী অধিকার ও সহায়তা সংগঠন ফেডেরাসিয়ন সুর আকোজের প্রধান জোসে মিগেল মোরালেস বলেছেন, কিছু শিশুর বয়স চৌদ্দ এর নিচে এবং তারা এরই মধ্যে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
তবে শিশুদের মূল ভূখণ্ডে স্থানান্তর মাদ্রিদে অভ্যন্তরীণ বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার সেখানকার অভিভাবকহীন নাবালকদের সহায়তার জন্য ২৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৯ মিলিয়ন ডলার) অনুমোদন করেছে।
দূর-ডানপন্থী, অভিবাসনবিরোধী ভক্স পার্টির নেতারা বলেছেন, তারা অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী শিশুদের কোনো সহায়তার বিরোধিতা করবেন।
ভক্স নেতা সান্তিয়াগো আবাসকাল এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, স্প্যানিশদের এক ইউরোও ‘অবৈধ ও আক্রমণকারীদের’ জন্য যাওয়া উচিত নয়।
সূত্র : আল জাজিরা




