দুর্নীতির দায়ে চীনের দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

ওয়েই ফেংহে এবং লি শাংফু। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতির অভিযোগে চীনের দুই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে এবং লি শাংফুকে স্থগিত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি সামরিক আদালত। এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া।
রায় অনুযায়ী, দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হবে মৃত্যুদণ্ড। পরে সাজা কমিয়ে রূপান্তর করা হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে। তবে থাকছে না প্যারোলে মুক্তির সুযোগ। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে তাদের সব ব্যক্তিগত সম্পদ জব্দের নির্দেশ।
চীনের সামরিক বাহিনীতে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যেই এই রায় এলো। সাম্প্রতিক সময়ে পদচ্যুত করা হয়েছে দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে।
২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওয়েই ফেংহে। ২০২৩ সালের মার্চে তার স্থলাভিষিক্ত হন লি শাংফু। তবে লির মেয়াদ ছিল খুবই স্বল্প সময়ের। জনসমক্ষে হঠাৎ অনুপস্থিত হয়ে যাওয়ার দুই মাস পর, ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় পদ থেকে।
সিনহুয়ার বরাত দিয়ে প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিপুল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ এবং অন্যদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে লি শাংফুর বিরুদ্ধে। তদন্তে আরও ওঠে আসে, রাজনৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি তিনি এবং নিজের ও অন্যদের ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ে করেছেন ক্ষমতার যথেচ্ছ অপব্যবহার।
অন্যদিকে, ওয়েই ফেংহের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে শুরু হওয়া তদন্তে দেখা যায়, বড় অঙ্কের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন তিনি। পাশাপাশি নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে অবৈধ সুবিধা পেতে সহায়তা করেছেন অন্যদের।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনীতে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে চীনের সেনাবাহিনী বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।‘
সে-সময় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ঝাং ইউশিয়াকেও।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন শি জিনপিং। তবে সমালোচকদের দাবি, এসব অভিযান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেওয়ার কৌশল হিসেবেও ব্যবহার হয়েছে একাধিকবার।




