চীনে টাইফুন মেসাক ও বন্যায় সাতজনের মৃত্যু

চীনের গুয়াংজি প্রদেশের পিংশান গ্রামে টাইফুন মেসাকের কারণে বন্যা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স
চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংজি প্রদেশের নান্নিং শহরে টাইফুন মেসাকের আঘাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। আর প্রবল বৃষ্টিতে উত্তর চীনে মারা গেছেন আরও পাঁচজন।
সোমবার শহরটির ডেপুটি মেয়র ওয়েই জিয়াং জানিয়েছে, টাইফুনের প্রভাবে বাঁধ ভেঙে গুয়াংজি অঞ্চলের রাজধানী নান্নিং তলিয়ে গেছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নান্নিং-এ বন্যায় ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত ৪৮,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ গুইগাং জলবিজ্ঞান কেন্দ্রে পানির স্তর ৪২ মিটারে উঠেছিল।
দক্ষিণ চীনের ফাংচেংগ্যাং এলাকার এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট গাড়ি রাস্তা দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। পানি অন্য আরেকটি গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল পর্যন্ত উঠে এসেছে এবং একজন ব্যক্তিকে তার ইলেকট্রিক স্কুটারটি ভেসে যাওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।
এছাড়া বন্যায় প্রায় ১৭০ মাইল দূরের গুইগাং শহর একটি বড় রাস্তা রীতিমতো হ্রদে পরিণত হয়েছে। রাস্তার গাড়িগুলো ডুবে গেছে এবং পানির স্রোত বাড়িঘরে আছড়ে পড়ছে।
এদিকে, উত্তর চীনে প্রবল বৃষ্টিতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় ইনার মঙ্গোলিয়ায় আকস্মিক বন্যায় দুজন এবং একই দিনে লিয়াওনিং প্রদেশের ফুশুনে আরও তিনজন মারা গেছেন।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, ‘অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের’ কারণে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং উদ্ধার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্যমতে, মার্কিন দ্বীপ গুয়ামে আঘাত হানা বাভি বৃহস্পতিবার থেকে পূর্ব চীনে প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত বয়ে আনবে।
চীনা আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী দিনগুলিতে গুয়াংসি, গুইঝৌ, হুনান এবং অন্যান্য অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। শুধুমাত্র এই তিনটি অঞ্চলেই ১৫ কোটিরও বেশি মানুষ বাস করে, যা রাশিয়ার জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতি বছর আবহাওয়াজনিত ঝুঁকির কারণে কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড নষ্ট হয়। বৃষ্টিতে শহরগুলো প্লাবিত হয়, শিল্প কার্যকলাপ স্থবির হয়ে পড়ে এবং ফসল ডুবে যায় বা ভেসে যায়।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন চরম আবহাওয়ার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকির সম্মুখীন, যাকে আবহাওয়াবিদরা জলবায়ু সংকটের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান





