নেপালের বন্যায় ক্ষতি আড়াই বিলিয়ন ডলার

নেপালের নুয়াকোট জেলার দেবীঘাটে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর ত্রিশূলী নদী পারাপারের জন্য অস্থায়ী জিপলাইন তৈরি করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় সম্পদ, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর অন্তত আড়াই বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দাড়ায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।
দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতি আজ শুক্রবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন এই তথ্য।
ধর্মরাজ উপ্রেতি জানান, দুর্যোগের পর প্রাথমিক চার মাসে সড়ক নির্মাণ, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি, সুপেয় পানি সরবরাহ এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে প্রায় ৫২.৬ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
‘এগুলো প্রাথমিক হিসাব। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই হিসাব করা হয়েছে’, ভাষ্য দেশটির দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের প্রধানের ভাষ্য।
শিগগিরই ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানান ধর্মরাজ।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন উপ্রেতি। এর মধ্যে অন্তত ৭ হাজার ৫০০ ঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
নেপালের আকস্মিক বন্যার এই ধকল কাটিয়ে উঠে দেশটির পুনর্গঠনে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে। খরচের এই পরিমাণ প্রাথমিক হিসাব বলে মত তার।
স্বর্ণিম ওয়াগলে গত সপ্তাহে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘এটি শুধু একটি অনুমান।’
‘২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠনে যে অর্থ প্রয়োজন হয়েছিল, এবার তার তুলনায় অনেক কম অর্থ লাগবে। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে’, বলছিলেন স্বর্ণিম ওয়াগলে।
এদিকে, নেপালে আকস্মিক বন্যার ৯দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এদিন ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এতে টানেলের ভেতরে আটকে থাকা অন্যদেরও জীবিত উদ্ধারের আশা জেগেছে।
উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন— যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহার্জন।
নেপাল বিদ্যুৎ সংস্থার (এনইএ) কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর তাদের হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের হাত ও পায়ে আঘাত রয়েছে। সম্ভবত টানেলের ভেতর দিয়ে হামাগুড়ি দেওয়ার কারণে তারা এ আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন। তারা অক্সিজেনের অভাবে ভুগছেন।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সুরেশ রাউত বিবিসিকে বলেছেন, তাদের ধারণা অনুযায়ী টানেলটির ভেতরে আরও ৩৯ শ্রমিক রয়েছেন।
এর আগে, গত ২৬ আগস্ট চীন সীমান্তবর্তী নেপালের এলাকায় একটি হিমবাহ ধসে পড়ে। এতে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত ত্রিশূলী নদী দিয়ে নেমে আসে। মুহূর্তে ভেসে যায় শহর ও গ্রামের পর গ্রাম।
এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজার হাজারো মানুষ।
সূত্র : রয়টার্স







