নেপালের সুড়ঙ্গ থেকে আরও ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধারের আশা

ছবি: নেপালের সেনাবাহিনী
আকস্মিক বন্যার নয়দিন পর বড় ধরনের সুখবর পেল নেপাল। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দুজনকে। এখন সেখান থেকে আরও ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধারের অপেক্ষা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আজ শুক্রবার সকালে দুজনকে জীবিত তুলে আনার পর সুড়ঙ্গ থেকে শ্রমিকদের উদ্ধারের পথ খুলল। ধারণা করা হচ্ছে, বিভিন্ন বিদ্যুৎপ্রকল্পের সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকে আছেন।
কর্মকর্তারা ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা ত্রিশূলি-৩এ হাইড্রোপাওয়ার প্ল্যান্টের সুড়ঙ্গ থেকে আরও ৪২ জনকে উদ্ধারের আশা করছেন।
ওই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার হওয়া দুজন হচ্ছেন—যান্ত্রিক বিভাগের ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং যান্ত্রিক বিভাগের সুপারভাইজার কবির মহার্জন।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নেউপানে গত ২৬ আগস্ট বন্যা আঘাত হানার পর থেকে তিনি উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, দুই শ্রমিকের জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় টানেলের ভেতরে আটকে থাকা অন্যদেরও উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যের বরাতে শ্রী রাম নেউপানে জানান, প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা হয় কবির মহার্জনকে।
এর আগে উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কথা শুনতে পান। এরপর সেখানে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়।
কথা শোনার পর নেপাল সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী তাদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করে।
নেউপানে বলেছেন, ‘উদ্ধারকারী দল ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেছিল, আতঙ্কিত হবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’ ভেতর থেকে জবাব আসে, ‘ঠিক আছে।’
পরে তিনি জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে একাধিক ব্যক্তি আটকে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উদ্ধারকারীরা।
২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যায় ত্রিশূলী নদীর উপত্যকা প্লাবিত হয়। এতে নেপালে ১ হাজার ২৫২ জন নিহত হন। এছাড়া চীনের তিব্বতে নিহত হন ২১ জন। বন্যায় নেপালে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। এরপর থেকে দুর্গম পরিস্থিতির মধ্যেই টানেল ও বিভিন্ন স্থাপনায় আটকে পড়া মানুষদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।






