দুর্যোগ মোকাবিলায় দিশাহারা নেপাল

নেপাল। হিমালয়ের আকস্মিক উন্মাদনায় আজ এক স্তব্ধ ও দিশাহারা জনপদ। তিব্বত থেকে নেমে আসা হিমবাহ ধসের দানব প্লাবনে লণ্ডভণ্ড চারপাশ। নুয়াকোট, রসুয়া, তানাহুন, চিতওয়ান, ধাদিং, গোরখা, নওয়ালপারসি পূর্ব ও পশ্চিম—হিমালয় ঘেঁষা নেপালের এই সীমান্তবর্তী আট জেলায় কান পাতলেই শুধু হাহাকার। স্বজনহারা শোকে স্তব্ধ পুরো জনপদ! চোখে প্রিয়জন ফিরে পাওয়ার নির্ঘুম অপেক্ষা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘রেসকিউ রিকোয়েস্ট পোর্টাল’র দৈনিক তালিকায় এখনো নিখোঁজ ১০ হাজার ২০০ মানুষ!
নেপালের রসুয়ায় ভয়াবহ বন্যার পাঁচ দিন (বুধবার থেকে) পার হলেও মানুষের দুর্ভোগ এখনো চরমে। পরিস্থিতি সামালে রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়েছে জেন জি নেতা বালেন্দ্র শাহের মাত্র পাঁচ মাস বয়সী নেপাল সরকার। এরই মধ্যে সরকারি উদ্ধারনীতি বদলও হয়েছে। মোটা দাগে বলা যায়, নেপালের কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা চালালেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দৃশ্যমান। সবমিলে নিরাপত্তা বাহিনীর ২০ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে নেপাল। শনিবারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকারকে সহায়তায় এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে ভারত ও চীন— উভয় দেশই। শত শত বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ থাকায় বিভিন্ন দিক থেকে সহায়তাও অব্যাহত রয়েছে। ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নাগরিকদের উদ্ধারে বিশেষ দল পাঠিয়েছে যুক্তরাজ্যও। বন্যা দেখা দেওয়ার পর স্থানীয় সরকারের পরিবর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে নেপাল সরকার। এতে ত্রাণ সংগ্রহ হলেও বিতরণের ক্ষেত্রে দেখা যায় ধীরগতি।
গতকাল এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত রেসকিউ রিকোয়েস্ট পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার সহায়তার আবেদন পড়েছে ২৬০টি। এর মধ্যে ১৭০টি অত্যন্ত জরুরি আবেদন। ৪৫টি আবেদনের প্রক্রিয়াধীন ও সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ৩টির। বর্তমানে চলমান রয়েছে ২০৪টি উদ্ধার তৎপরতা। এ ছাড়া ১০৫টি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সহায়তা দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছে। যদিও বর্তমানে সহায়তা প্রদানে কার্যকর নেই কোনো আবেদন। সরকারি ওয়েবসাইটটিতে রিপোর্ট হওয়া নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৮ জন। ৯৯৩ শিশু-কিশোর ( যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে) ও ৫২৪ জন ষাটোর্ধ্ব নাগরিক রয়েছেন এই নিখোঁজ তালিকায়। গত পাঁচ দিনে সন্ধান মিলেছে ৪ হাজার ৮৭৪ জনের। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১০ হাজার ২০০ জন। আপনজনকে খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ৫৫১টি পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণসামগ্রীর চেয়ে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা হেলিকপ্টারে করে যাচ্ছেন বেশি— উঠেছে এমন অভিযোগও। এতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারা। অনেকে তাদের ‘দুর্যোগ পর্যটক’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই গতকাল ক্ষমতাসীন দলের হুইপ ক্রান্তি শিখা ধিতাল এমপিদের বন্যাকবলিত এলাকায় অপ্রয়োজনীয় সফর না করার নির্দেশ দেন।
তিব্বতে এখনো নিখোঁজ শত শত
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতে ভূমিধসের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন শনিবার সাতজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা।
সিসিটিভি আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে ৩২০ জন ভারতীয় ১০০ জন চীনের, ৯০ জন যুক্তরাষ্ট্রের ও ব্রিটেনের ৩৩ জন।
লেখক: সম্পাদক, মানবআওয়াজ







