থাইল্যান্ড
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকেও গলবে না মিয়ানমার-আসিয়ান সম্পর্কের বরফ

আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পতাকা- রয়টার্স
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় প্রতিবেশীরা মিয়ানমারের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলেও জোটের উচ্চপর্যায়ে এখনো একঘরেই থাকছে জান্তা নেতৃত্ব। শুক্রবার এমনটাই ইঙ্গিত দিল থাইল্যান্ড। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে নেপিদোর কোনো সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ার আগমুহূর্তে এমনটা জানাল ব্যাংকক।
আগামী রবিবার ব্যাংককে একটি আন-অফিসিয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন মং সোয়ে ১১ দেশের জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বসবেন।
চলতি বছর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে থাকা ফিলিপাইন শুক্রবার নিশ্চিত করেছে, ‘২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মিয়ানমারের মধ্যে এটিই প্রথম মুখোমুখি ও সরাসরি বৈঠক।’
থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-মুখপাত্র মারাতি নলিতা আন্দামোর ভাষ্য, বৈঠকগুলো মিয়ানমারের সঙ্গে পর্যায়ক্রমিক এবং নীতিগত সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এগুলো মূলত অনানুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। তাতে মিয়ানমারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আসিয়ানের অবস্থান বা সিদ্ধান্ত বদলাবে না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলছিলেন, এই আলোচনা মূলত খোলামেলা মবিনিময় এবং সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজার সুযোগ।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমার জান্তা। এরপর থেকেই আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে নিষিদ্ধ নেপিদো। সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটিতে চলছে গৃহযুদ্ধ।
তবে সব পক্ষের সঙ্গে জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য আসিয়ান পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়েছিল। গত পাঁচ বছরে তাতে তেমন অগ্রগতি হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারের সামরিক নিয়ন্ত্রিত ইউনিয়ন পার্লামেন্টে সেই পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারকে আবারও আসিয়ান জোটে ফেরানোর বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্যে ফাটল ধরছে। থাইল্যান্ডের নেতৃত্বে কিছু দেশ মিয়ানমারের ছোটখাটো ছাড় বা পরিবর্তন মেনে নিয়ে তাদের পুনরায় জোটে ফেরাতে আগ্রহী। অন্যদিকে বাকি দেশগুলো জান্তার বিরুদ্ধে এখনো কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনামের সরকার নিশ্চিত করেছে, রবিবারের বৈঠকে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। তবে থাই মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা অতিথিদের তালিকা এখনো প্রস্তুত করছেন। তিনি জান্তা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে নতুন সুযোগ বলে দাবি করেছেন। যদিও নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত।
ফিলিপাইন জানিয়েছে, বৈঠকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ব্রিফ করবেন।
উল্লেখ্য, পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।





