মার্কিন প্রস্তাবে লিবিয়ার মতো সুদান বিভক্তির ঝুঁকি, অভিযোগ সেনাবাহিনীর

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে চলছে গৃহযুদ্ধ— রয়টার্স
সুদানের গৃহযুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুদানের সেনাবাহিনী-নেতৃত্বাধীন সরকারের এক শীর্ষ উপদেষ্টার দাবি, বর্তমান রূপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশটি লিবিয়ার মতো কার্যত বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে সুদানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে তাদের জায়গা করে দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।এ পর্যন্ত পরিকল্পনাটির বিষয়ে কোনো সুদানি কর্মকর্তার করা সবচেয়ে কঠোর সমালোচনাগুলোর একটি এটি।
সুদানের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ভিসা আটকে দেওয়া হয়েছে বলে এক সপ্তাহ আগে রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। কারণ, তিনি তখনও ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি বলে জানানো হয়েছিল।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সঙ্গে লড়াই করছে। বেসামরিক শাসনে যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই বাহিনীকে কীভাবে একীভূত করা হবে, তা নিয়ে বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের পর এই সংঘাত শুরু হয়।
বুরহানের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা আমজাদ ফারিদ রয়টার্সকে বলেন, সেনাবাহিনী-নেতৃত্বাধীন সরকার চুক্তিতে কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ছিল আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে শহরাঞ্চল থেকে আরএসএফের প্রত্যাহার। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছে বলে মনে হয়েছে।
নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া ফারিদ রয়টার্সকে বললেন, ‘মি. বুলোস আমাদের ওপর লিবিয়ার মডেলের মতো কার্যত দেশ ভাগ মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে।’
তিনি আরও বললেন, ‘আমাদের উদ্বেগ হলো, মি. বুলোস যে পদ্ধতিটি অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন, তাতে মিলিশিয়াটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং সুদানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে তাদের জন্য একটি জায়গা সংরক্ষণ করার বিষয়টি মেনে নেওয়া হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’ এখানে তিনি আরএসএফকে বোঝান।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি সুদানি প্রতিনিধিদল বুলোসের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে বুরহানের ভিসা আটকে দেওয়ার পর বৈঠকটি বাতিল করা হয় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই সুদানি কূটনীতিক। অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এ কথা বলেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। গত সপ্তাহে দপ্তরটি বলেছিল, আরএসএফ বা সশস্ত্র বাহিনী—কোনোটিই ‘সুদানের বৈধ, সাংবিধানিক শাসনের প্রতিনিধিত্ব করে না’।
সমান্তরাল সরকার গঠনের চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্র আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যা এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে।
বিশ্লেষক ও কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন, এই সংঘাতের ফলে সুদান কার্যত প্রতিবেশী লিবিয়ার মতো বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লিবিয়া পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রশাসনের মধ্যে বিভক্ত রয়েছে।
গত বছর থেকে আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলের নিয়ালা শহরে নিজেদের একটি সমান্তরাল সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সেখানে মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে এবং কিছু পুলিশও সক্রিয় রয়েছে। তবে তারা স্কুল, হাসপাতাল ও আদালতের মতো জনসেবা বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পর আরএসএফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে কোনো বিবৃতি দেয়নি। তাদের নেতা অবশ্য বলেছেন, তাদের যোদ্ধারা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।





