দক্ষিণ সুদানে সশস্ত্র হামলায় দুই শান্তিরক্ষী নিহত

দক্ষিণ সুদানে টহলরত কয়েকজন শান্তিরক্ষী সদস্য। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদানে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় জাতিসংঘের দুই শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিন শান্তিরক্ষী।
এ ছাড়া দক্ষিণ সুদানের স্থানীয় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও মিশনের সঙ্গে কাজ করা দুই বেসামরিক কর্মীও এ হামলায় আহত হয়েছেন।
সোমবার এক বিবৃতিতে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘের মিশন (ইউএনএমআইএসএস) জানিয়েছে, জংলেই রাজ্যের পাজুটের দিকে যাওয়ার সময় একটি টহল দলের ওপর হামলা চালানো হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দেশটিতে আবারও গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটল।
নিহত শান্তিরক্ষীদের পরিচয় ও জাতীয়তা এখনো জানানো হয়নি।
হামলার পর এলাকা নিরাপদ করা এবং জরুরি উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য জাতিসংঘের মিশন একটি ‘দ্রুত উদ্ধারকারী বাহিনী’ মোতায়েন করেছে।
মিশনের প্রধান আনিতা কিকি গবেহো বলেছেন, ‘দক্ষিণ সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা ইউএনএমআইএসএসের সদস্যদের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনে প্রায় ১২ হাজার শান্তিরক্ষী সৈন্য বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কর্মরত আছেন। সামরিক কর্মিদের পাশাপাশি এ মিশনে প্রায় ২ হাজার ১০০ পুলিশ কর্মকর্তা এবং ২ হাজার জনেরও বেশি বেসামরিক কর্মী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুসারে, ১ হাজার ৬২০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনে বর্তমানে কাজ করছেন। তার মধ্যে ১ হাজার ৪১৪ জন সেনা সদস্য।
এ ছাড়া নীল নদ সুরক্ষিত করার জন্য ২০৩ জন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য বিশেষায়িত মেরিন ইউনিট পরিচালনা করছেন।
চলতি বছর দেশটিতে মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।
জাতিসংঘের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মানবিক সহায়তাকর্মী ও তাদের স্থাপনার ওপর ৪৫০টির বেশি হামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
এসব হামলায় অন্তত ৩৬ জন সহায়তাকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। ২০২৫ সালে নিহত হয়েছিলেন ৩১ জন।
সরকারি বাহিনী ও বিরোধী নেতা রিয়েক মাচারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যেই এসব সহিংসতা ঘটছে।
মাচার একসময় দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। গত বছর তাকে পদ থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে মাচার দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও মাচারের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়েছিল। তবে সেই চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর ফলে দক্ষিণ সুদান আবারও পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। আট বছর আগে এমন পরিস্থিতি ঠেকাতেই ওই চুক্তি করা হয়েছিল।
গত ডিসেম্বরে সংঘাত আরও বেড়ে যায়। ওই সময় বিরোধী বাহিনী জংলেই রাজ্যের কয়েকটি সরকারি অবস্থান দখল করে। এরপর সরকার বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়। তবে সরকার এখনো ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের কথা বলে আসছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র কির ও মাচারকে আলোচনায় ফেরাতে চাপ দিয়ে আসছে। চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটন ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনা শুরুর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে রিপাবলিকান প্রশাসন।
সূত্র : আল জাজিরা







