ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ট্রাম্পের ‘সুন্দর দিন’ উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরাক থেকে সর্বশেষ মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘সুন্দর দিন’ এবং আইএসের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। তবে তার বক্তব্যে ইরাক যুদ্ধের কারণে দেশটির মানুষের ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির বিষয়টি উঠে আসেনি।
ট্রাম্প বলেন, ২৩ বছর ধরে চলা যুদ্ধে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩১ হাজার আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ‘শত শত’ বেসামরিক ঠিকাদারও নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ইরাক যুদ্ধের স্বাধীন হিসাব সংরক্ষণকারী সংস্থা ইরাক বডি কাউন্টের হিসাবে, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর থেকে ইরাকে অন্তত ২ লাখ ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। গবেষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ বহু মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়নি। যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে আইএসের উত্থানের কারণে ইরাকের লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
হোয়াইট হাউসে হিস্পানিক ঐতিহ্য মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের বিদায় ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়’ এবং আইএসের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত বিজয়’। তার মতে, ‘আইএস সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার প্রথম মেয়াদে আমি তাদের ধ্বংস করেছি, শেষ করে দিয়েছি।’
ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের তুলনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের সময় ‘অনেক সামরিক সরঞ্জাম’ ফেলে আসা হয়েছিল এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হন। আহত হন ৪৮ জন। নিহত ও আহত সেনাদের পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কখনোই উল্লেখ করা হয় না।’
ইরাক থেকে প্রত্যাহারকে ট্রাম্প ‘নরকসম এক অভিযানের সমাপ্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ২০০৩ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাক যুদ্ধে জড়ানোর পেছনে ‘খুবই খারাপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ দায়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের প্রশাসন অভিযান চালিয়ে যাওয়ারও সমালোচনা করেন ট্রাম্প।
ইরবিল বিমানঘাঁটি থেকে জোটের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার কাজ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, কিছুই ফেলে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তার কথায়, ‘আমি বলেছিলাম, প্রতিটি স্ক্রু পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। মাটিতে যদি একটি স্ক্রুও পড়ে থাকে, সেটিও নিয়ে যেতে হবে। যদি একটি তাবুও থাকে, সেটিও নিয়ে যেতে হবে।’
ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি এমন একজন, যাকে আমি শুরু থেকেই সমর্থন করেছি এবং পুরোপুরি সমর্থন দিয়েছি।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সামনে থেকে যাওয়ার বা থেকে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু কোনো প্রশ্ন ছাড়াই আমার মনে হয়েছে, এখনই দেশে ফেরার সময়।’




