কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ হলে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

লিথুয়ানিয়ার এক প্রদর্শনীতে স্পেন বিমানবাহিনীর এফ-১৮ যুদ্ধবিমান। ছবি: রয়টার্স
ন্যাটোর সামরিক জোট রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করলে পরমাণু অস্ত্রসহ নিজেদের পুরো অস্ত্রভান্ডার ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। বুধবার সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক কূটনৈতিক নথিতে দেওয়া হয়েছে এ হুঁশিয়ারি।
ওই নথিতে বলা হয়েছে, ‘ন্যাটো কালিনিনগ্রাদে আকাশ ও নৌ অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে’ বলে রাশিয়ার কাছে তথ্য রয়েছে। রাশিয়ার দাবি, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
রাশিয়ার হুঁশিয়ারির জবাবে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ন্যাটো একটি প্রতিরক্ষামূলক সামরিক জোট। তিনি রাশিয়াকে ‘পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি বন্ধ করার’ আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, রাশিয়ার এই নথি পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনোভাবেই সহায়ক নয়।
রুটে আরও বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে রাশিয়ার জয়ের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘পুতিন জানেন, তিনি কখনোই জিততে পারবেন না।’
পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া, দুটি ন্যাটো সদস্য দেশের মাঝখানে বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল। এটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের ঘাঁটি রয়েছে। পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও মোতায়েন রয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পর প্রতিবেশী দেশগুলোতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এল।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নিজেদের আকাশসীমায় রুশ বিমানের অনুপ্রবেশের অভিযোগের পর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে পোল্যান্ড। এ ছাড়া দুই সপ্তাহ আগে বাল্টিক সাগরের ওপর একটি ডেনিশ সামরিক হেলিকপ্টারের কাছে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ দুটি আলোকসংকেত ছুড়েছে বলে জানিয়েছে ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ।




