টেনিস
হল অব ফেমে স্থান পেয়ে চোখ ভিজল ফেদেরারের

টেনিস কোর্টের রাজত্ব ছাড়ার চার বছর পর আরও এক অনন্য মর্যাদায় ভূষিত হলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা টেনিস তারকা রজার ফেদেরার। যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক টেনিস হলের অব ফেম-এ আনুষ্ঠানিকভাবে জায়গা করে নিয়েছেন এই সুইস মায়েস্ত্রো। বিলি জিন কিং এবং জন ম্যাকেনরোর মতো টেনিস কিংবদন্তিদের উপস্থিতিতে নিজের ক্যারিয়ারের এই মুহূর্তটিকে জীবনের ‘অন্যতম সেরা সম্মান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ২০ বারের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ী এই তারকা।
১৯৯৮ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ফেদেরারের অভিষেক হয়েছিল। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রেকর্ড আটটি উইম্বলডন পুরুষ একক শিরোপার পাশাপাশি ছয়টি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, পাঁচটি ইউএস ওপেন এবং একটি ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছেন। শুধু তাই নয়, রেকর্ড ৩১০ সপ্তাহ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান দখল করে রেখেছিলেন। টেনিস ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম আছে কেবল রাফায়েল নাদাল (২২) এবং নোভাক জোকোভিচের (২৪)।
হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্তির পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৪৫ বছর বয়সী ফেদেরার। চোখ মুছতে মুছতে রসিকতা করে তিনি বলেন, ‘আমার এখন টিস্যু এবং সানগ্লাস দরকার, নিজেকে রক্ষা করার জন্য সবকিছুই লাগবে। আমার অবস্থা বিশেষ সুবিধার নয়। সবাই এটাকে হলের অব ফেম বলে, কিন্তু খ্যাতি অর্জন কখনই আমার লক্ষ্য ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করা, যা আমি ভালোবাসি। এমন মানুষদের সঙ্গে খেলা, যারা এটি আমার মতোই ভালোবাসেন।’
নিজের বিখ্যাত ক্যারিয়ার নিয়েও ফেদেরা কৌতুক করে বলেন, ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সালে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ৫ হাজারেরও বেশি হেডব্যান্ড এবং প্রায় ৭ হাজার জোড়া মোজা পরেছেন! নিজের স্ত্রী মিরকা, টেনিস আইডল স্টেফান এডবার্গ এবং তার ম্যাচগুলোতে দায়িত্ব পালন করা প্রতিটি বল বয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়ি জীবন শেষ, কিন্তু টেনিস সবসময় আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। আমার পরিবার, বন্ধুত্ব এবং বিগত ৪০ বছরের অর্জনের সঙ্গে টেনিস ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’
আন্দ্রে আগাসি থেকে শুরু করে রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচ—একাধিক প্রজন্মের তারকাদের বিপক্ষে খেলার সৌভাগ্য অর্জন করায় নিজেকে ‘অবিশ্বাস্য রকম ভাগ্যবান’ বলে উল্লেখ করেছেন টেনিসের এই বরপুত্র। ফেদেরারের এই হলের অব ফেম অন্তর্ভুক্তি কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জনকেই মুকুট পরায়নি, বরং বিশ্ব টেনিস ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এক অধ্যায়কেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।










