ঘরোয়া ফুটবল ফিরবে ‘হোম অব ফুটবলে’

ছবি: আগামীর সময়
জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবল হয় না পাঁচ বছর। তাবিথ আউয়াল নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব নিয়ে হোম অব ফুটবল খ্যাত এই স্টেডিয়ামে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সময়ের ফেরে সে সিদ্ধান্তে বদল আনতে হচ্ছে বাফুফেকে। সম্প্রতি বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর এই মাঠে ফিরবে ঘরোয়া ফুটবল। বৃহস্পতিবার বাফুফের তিন উপ-কমিটির যৌথ সভা শেষে কর্মকর্তারা সেই সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
নভেম্বরে ঢাকায় বসবে সাফের আসর। এখন পর্যন্ত জাতীয় স্টেডিয়ামেই সব ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা শোনা গেছে। মর্যাদার এই টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার সে সময় বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ ছয় দলকে সুযোগ দেওয়া হবে এ মাঠে খেলার। এছাড়া ফেডারেশন কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো এখানে আয়োজনের পরিকল্পনা আছে তাদের।
২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এ মাঠে শেষবারের মতো হয়েছিল পেশাদার ফুটবল। আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের ম্যাচের পর স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য বন্ধ হয়ে যায় খেলা। দীর্ঘ সময় সংস্কার শেষে বাফুফে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মাঠ ব্যবহারের সুযোগ পায়। তবে এখানে তারা চায়নি ঘরোয়া ফুটবল আয়োজন করতে। বাংলাদেশ দলের হোম ভেন্যু হিসেবেই চেয়েছিল এই মাঠ ব্যবহার করতে। তবে ক্লাবগুলোর দাবির মুখে সে সিদ্ধান্ত থেকে বাফুফে সরে এসেছে। যদিও আসন্ন মৌসুমে হোম ভেন্যু হিসেবে এ মাঠ বরাদ্দ পায়নি কোনো ক্লাব।
বাফুফে ভবনে বৃহস্পতিবার কমপিটিশন কমিটি, প্রকিউরমেন্ট কমিটি ও গ্রাউন্ডস কমিটির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভা শেষে এ তথ্য জানিয়ে বাফুফে সদস্য ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সাফের পর ঘরোয়া ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো আমরা ঢাকা স্টেডিয়ামে আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছি। সেটা হতে পারে ফেডারেশন কাপ ফাইনাল বা লিগের কিছু বড় ম্যাচ।’
এ মৌসুমের দেশের ছয়টি ভেন্যুতে হবে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের খেলা। নতুন যুক্ত হয়েছে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়াম। তবে এ স্টেডিয়ামে মৌসুমের শুরু থেকে খেলা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন আছে। মাঠের মাঝখানে বসানো ক্রিকেট উইকেট ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। ১৫ সেপ্টেম্বর বাফুফের প্রতিনিধিদল মাঠটি আবার পরিদর্শন করবে। এছাড়া লিগের খেলা হবে গাজীপুর, বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, কুমিল্লা এবং মুন্সিগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে।
১৮ সেপ্টেম্বর লিগ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা নতুন মৌসুম। যদিও বেশ কিছু ক্লাব খেলা পেছানোর দাবি জানিয়েছে বাফুফের কাছে। মঙ্গলবার দশ ক্লাবের কর্তাদের স্বাক্ষরিত চিঠি জমা পড়েছে বাফুফের দফতরে। সেখানে ক্লাবগুলো ৬টি দফা দাবি জানায়। যদিও এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্কা। শীর্ষ লিগে নবাগত সিটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হক দাবি করেন, এ সংক্রান্ত কোনো চিঠিতে তিনি সাক্ষর করেননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মইনুল হকের ছোট ভাই, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও। সাক্ষর জাল করায় অভিযোগ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।



